ছুটি শেষে সৌদি ফিরেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার শাহেদ
এক মাসের ছুটিতে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে বগুড়ায় নিজ বাড়িতে এসেছিলেন ৩৬ বছর বয়সী মো. শাহেদ আহম্মেদ। ছুটি শেষে ফিরে যান কর্মস্থলে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছে উড়োজাহাজ থেকে নামার পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান তিনি।
নিহত শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে। তিনি ২০১৩ সাল থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন বলে জানান তার চাচাতো ভাই মাসুম রানা (৩০)।
দ্য ডেইলি স্টারকে মাসুম বলেন, ‘দুই বছর পর এক মাসের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরছিলেন। কিন্তু, বিমানবন্দরে নামার মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।’
তিনি জানান, শাহেদের বাবা রফিকুল ২৬ বছর ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে থাকেন। তিন মাস আগে তার মা সাহেরা বেগমও সেখানে যান। সৌদি পৌঁছে আগে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে তারপর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল শাহেদের। সেই সুযোগ আর পেলেন না তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন শাহেদ। পরদিন সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
শাহেদের স্ত্রী কাকলী (২৬) জানান, বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহেদ কল করে জানিয়েছিলেন, তিনি নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে শোকে বিহ্বল কাকলী ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না।
শোকাহত স্বজনেরা শাহেদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে এবং তার দুই শিশুসন্তান ও স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এএফপির প্রতিবেদন বলছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এ হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।