রিয়াদের পর সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরেও হামলার হুমকি হুতিদের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। ওই ঘটনার পর আজ রোববার সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে হুতিরা।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এগুলো আমাদের বাহিনীর সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র।’

মক্কা ও মদিনা শহরকে এই হুমকির বাইরে রাখা হয়েছে। মুসলিমদের জন্য পবিত্র ওই দুই শহর ছাড়া অন্যান্য শহরে যাত্রীদের ভ্রমণ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে হুতিরা।

শনিবারের হামলাটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

দেশ সৌদি আরবের রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিরা এক সপ্তাহ ধরে হামলা জোরদার করেছে।

গত বৃহস্পতিবারও বিমানবন্দরটি আক্রান্ত হয়। সেদিনের হামলায় তিনজন নিহত হন।

এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ। অন্যদিকে, গত মাসে ঝটিকা অভিযানে লোহিত সাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় হুতিরা।

শনিবারের হামলার পর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শনিবারের হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। তারা এই হামলাকে ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।

একটি কূটনৈতিক সূত্রও এই হামলার জন্য হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করেছে। এর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এদিকে, রোববার হুতিদের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিনিয়ন্ত্রিত সানা প্রদেশে সৌদি আরব দুটি হামলা চালিয়েছে।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও স্পেনের দূতাবাসগুলো নিজ নিজ নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে বলেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক এএফপিকে বলেছেন, কয়েকটি দূতাবাস আগামী এক সপ্তাহ তাদের কর্মীদের বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে।