গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের পথ খুলল হাইকোর্ট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আয়কর পুনর্মূল্যায়ন করে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা নির্ধারণের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। 

আজ সোমবার সেটির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই বকেয়া কর আদায়ের পথ খুললো এনবিআরের জন্য।

গ্রামীণ কল্যাণ একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেন, বিবাদীদের (এনবিআর চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা) আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব আবেদনকারীর কাছ থেকে অনাদায়ী কর আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ রায় ও আদেশের একটি অনুলিপি অবিলম্বে বিবাদীদের কাছে পাঠানো হোক।

একই বেঞ্চের অপর এক রায়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর কাছ থেকে অনাদায়ী কর আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের অবিলম্বে দাবি-সংক্রান্ত নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হলো। এ রায় ও আদেশের একটি অনুলিপি অবিলম্বে বিবাদীদের কাছে পাঠানো হোক।

রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতিরা বলেন, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১২১এ(৪)(বি) ধারার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, রিট আবেদনগুলোতে চ্যালেঞ্জ করা কর নির্ধারণী বছরগুলোর রিটার্ন আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫(২)(ডি)(৩) ধারার অধীনে দাখিল করার সময় আবেদনকারী (গ্রামীণ কল্যাণ) যে কর পরিশোধ করেনি, তা স্বীকার্য। ফলে অধ্যাদেশের ৭৪ ধারা অনুযায়ী কর পরিশোধ করা আইনগতভাবে তাদের বাধ্যবাধকতা ছিল। গ্রামীণ টেলিকম উৎসে যে কর পরিশোধ করেছে, সেটিকে নিজেদের কর পরিশোধ হিসেবে দেখিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আগামী দু-একদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর মামলার দুই নম্বর বিবাদী কর অঞ্চল-১৪-এর উপকর কমিশনার আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১৪ বা ২২১ ধারার অধীনে গ্রামীণ কল্যাণকে নোটিশ দেবেন। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধের দাবিতে এ নোটিশ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ কল্যাণ বকেয়া কর পরিশোধ না করলে আইনের ২২১ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে এনবিআর।

এদিকে, গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ বলেন, তার মক্কেল হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন।

তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস ২০২৪ সাল থেকে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনগুলোর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ একই রিট আবেদনগুলো খারিজ করেন। বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশে পরে তাকে অপসারণ করা হয়।

২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ওই বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহার করেন এবং সিদ্ধান্তের জন্য সে বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট নথি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে পাঠান।

২০২৪ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে গ্রামীণ কল্যাণের আরেক আইনজীবী সরদার জিন্নাত আলী বলেছিলেন, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান আগে আইনজীবী হিসেবে মামলাটিতে যুক্ত থাকায় রায় লিখতে বিব্রত বোধ করেছিলেন। এ কারণেই বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহার করেছিল।

পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনগুলো নতুন করে শুনানির জন্য বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান।