বিএনপি একই ফ্যাসিজমের পথে: জামায়াত আমির

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিএনপির সমস্ত বুলি ছিল মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এবং প্রতারণা করা—তারা সেই একই ফ্যাসিজমের পথে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু বিল জনস্বার্থে হওয়ায় সেগুলোতে আমরা সমর্থন দিলেও, অন্য কিছু বিলে জনগণের অধিকার হরণ, সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার খর্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা ছিল। এসব বিলে আপত্তি জানাতে গিয়ে বিরোধীদল সময়সীমার বাধার মুখে পড়ে, যেখানে মন্ত্রীরা অসীম সময় পেয়েছেন—এটা সুবিচার হয়নি।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ তৈরি করছে, যা সংবিধান ও সাম্প্রতিক রায়ের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা আরেকটি ফ্যাসিজমে রূপ নিতে পারে।’

স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত আইন নিয়েও আপত্তি তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতি ছাড়া প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা অতীতে ঘোষিত নীতির বিরোধী।’

তবে ওয়াকআউট করলেও সংসদ বর্জন করা হয়নি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদে যাব, জনগণের পক্ষে কথা বলব। জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছু হলে আমাদের কণ্ঠ আবারও গর্জে উঠবে।’

আজ অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দেয়।’

তিনি সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ—যেমন মানবাধিকার, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত—বাতিল করা হয়েছে বা পরিবর্তন করা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিরোধীদলের ‘যৌক্তিক আপত্তি’ সত্ত্বেও এসব অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রবিরোধী ও গণবিরোধী আইন পাসের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছে—এ কারণেই বিরোধীদল ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে।’