বিএনপি নিজেরাই দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছে: জামায়াত আমির
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দলটি ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি ভেঙে এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার পথে হাঁটছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। আর আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন। এখন কী করছেন? একদলকে পাকিস্তানে, আরেক দলকে পেশোয়ারে পাঠাচ্ছেন—আর নিজেরাই দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছেন।’
আজ শুক্রবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির মামুনুল হক।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের দুটি স্লোগান—‘‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’’ ও ‘‘দেশটা কারও বাপের নয়’’—জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’
‘এই দেশ কোনো ব্যক্তির নয়, জনগণের,’ যোগ করেন তিনি।
বিএনপি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘রক্তাক্ত সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতায় একসময় যারা মজলুম ছিল, তাদেরই একটি অংশ এখন ক্ষমতায় গিয়ে অতীত ভুলে গেছে।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি উপায় হিসেবে গণভোটের বিকল্প নেই—এ কথা বিএনপি নিজেরাই আগে স্বীকার করেছিল। নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।’
‘এখন সেই গণভোটকেই অবৈধ বলা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।
এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানকে ‘পরস্পরবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গণভোট নির্বাচন-পূর্বে বৈধ থাকলেও পরে কীভাবে অবৈধ হলো? একই আদেশে দুই ভোট—গোশত হালাল, ঝোল হারাম, এটা সুবিধাবাদী মানসিকতা।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় মেনে নিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে তা বাস্তবায়ন না হলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চলবে।’
‘রাজপথ ও সংসদ একাকার হয়ে গেলে বালুর বাঁধ দিয়ে জোয়ার ঠেকানো যাবে না,’ সতর্ক করেন তিনি।
জনগণের রায় অস্বীকারের পরিণতি ভালো হয় না উল্লেখ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাবেশ এবং আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সঙ্গে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে পূর্বে তিনটি গণভোট হয়েছে—কোনো গণভোটের সঙ্গেই কেউ গাদ্দারি করেনি।’
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও হাম পরিস্থিতিতে জনগণ ভালো নেই।’
‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার বারবার কথার বরখেলাপ করছে,’ অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখও বক্তব্য দেন।