লোডশেডিং দূর করতে যে প্রতিবন্ধকতার কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পর্যাপ্ত না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগার অপর্যাপ্ত হওয়ায় এই সংকটও সমাধান করা যাচ্ছে না।

আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের সেবা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে সরকারের কী উদ্যোগ আছে?

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের বয়স মোটে ২ মাস। আমরা অনেকগুলো অব্যবস্থাপনা-অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি। এই জিনিসগুলো এখন আমাদের ডিল করতে হচ্ছে, মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের সব থেকে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মূলত গ্যাস নির্ভর। কিন্তু গ্যাসের চাহিদার মাত্র ১ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি আমাদের দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র থেকে আসে। আর ৯০০ এমএমসিএফডি এলএনজি আমরা বাইরে থেকে আমদানি করি। তারপরও আমাদের আরও ১ হাজার এমএমসিএফডি চাহিদা থেকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অর্থের সংস্থান করতে পারলেও বাড়তি ১ হাজার এমএমসিএফডি এলএনজি আনা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মোটে দুটি এবং এর দৈনিক ক্ষমতা ৯৩৫ এমএমসিএফডি।’

ল্যান্ড বেসড এফএসআরইউ এবং অফশোর এফএসআরইউ বাড়াতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেন্ডারে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাতে আমাদের এলএনজি আমদানির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তেলেও আমদানি নির্ভর, গ্যাসেও এখন আমদানি নির্ভর। কিন্তু এটির জন্য বড় কোনো টেকসই সংরক্ষণাগার তৈরির উদ্যোগ আমরা নেই নাই। অব্যবস্থাপনা-অরাজকতা বা বিভিন্ন বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যে সারা দেশ জিম্মি হয়ে পড়ে, এই জিম্মি দশা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।’

‘নির্মাণকাজ শেষ হলে হঠাৎ কোনো বৈশ্বিক ঘটনার কারণেও আমরা এই চাপের মধ্যে পড়বো না। অন্তত ১ মাস, ২ মাস সেই বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো টুলস আমাদের হাতে থাকবে,’ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত সাধারণ জনগণের ওপর আসবে না দাবি করে মুক্তাদির বলেন, ‘ডিজেল বা অন্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমরা যে দামেই বাইরে থেকে আনি, ভোক্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত যেটা—এখানে খুচরা মূল্য কত? পাম্প থেকে ভোক্তা ডিজেল পাচ্ছেন ১১৫ টাকায়। বাড়তি মূল্যে আসলেও সেই অভিঘাতটা সরকার তার বিভিন্ন টুলসের মাধ্যমে ধারণ করে, ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে দেয় না।’

তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫ শতাংশ। ১০০ টাকার ডিজেল হয়েছে ১১৫ টাকা। এই ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে একটি বাস যদি ২০০ কিলোমিটার বা একটা ট্রাক ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে যায়, কেজি প্রতি তার অভিঘাত ৩০ পয়সার বেশি আসে না। সে জন্য বাস্তবে (জ্বালানির মূল্য) এটুকু বৃদ্ধি সত্যিকার মূল্যস্ফীতিতে কোনো উপাদান যোগ করবে না।’