১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার ঘোষণা খেলাফত মজলিসের
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস।
দলটি জানিয়েছে, এই ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল এবং নির্বাচন শেষ হওয়ায় এর কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে গেছে।
আজশনিবার কাকরাইলে আইডিইবি (ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় এই সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কিছু কর্মসূচিতে তারা অংশ নিলেও এখন থেকে এই ঐক্যের আর কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেবে না। তবে ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের বিরোধীদলীয় ভূমিকা পালন করে যাবেন।
গণভোটের রায় পাশ কাটালে সরকার বিপদে পড়বে
অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা জনরায়ের পরিপন্থী। জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায় যাতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারকে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ও শাপলা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জোর দাবি জানানো হয়। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে সরকার বিপদে পড়বে।
রাজপথে নতুন কর্মসূচি ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত
১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের মাধ্যমে প্রদত্ত রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সব বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস। এছাড়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওযা হয়েছে শূরার অধিবেশনে।
অধিবেশনে শোক প্রস্তাবসহ মোট চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন, আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।