বেরোবিতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবির ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিতদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া রাত ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র, হকি স্টিক, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়। অনেকে হেলমেট পরেও সংঘর্ষে জড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেওয়ায় সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে আজ সকালেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি ছিল।

যেভাবে ঘটনার শুরু

শিবিরের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় প্রদর্শনীস্থলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ব্যানার সরিয়ে নিতে বলেন। ওই ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতাকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বেরোবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়। আমরা অত্যন্ত সৌজন্যতার সঙ্গে তাদের ব্যানারটি সরাতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।’

আহত ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই কিলিং নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রোগ্রাম নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু তারা এই প্রোগ্রামের নামে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছে। ব্যানার সরাতে বলায় তারা আমাদের মেরে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, শিবিরের কর্মসূচিতে একটি ব্যানার নিয়ে আপত্তি তোলে ছাত্রদল। এ নিয়েই মূলত বাগ্‌বিতণ্ডা এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যায়। মূলত ছাত্রলীগের উসকানিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যা পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছেন। রাতেই আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করেছি।’