চট্টগ্রামে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৫ শাখায় আমানতকারীদের তালা
আমানতের ওপর মুনাফা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক লেনদেনের দাবিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৫টি শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা।
আজ সোমবার সকালে ব্যাংকে তালা দিয়ে গ্রাহকেরা আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন।
একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এর আগে একই দাবিতে খাতুনগঞ্জে তিনটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়েছিলেন গ্রাহকেরা।
আমানতকারীদের প্রধান দাবি হলো—অবিলম্বে মুনাফা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং তাদের জমানো টাকা ফেরতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে আমানতকারীরা আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে মিছিল বের করেন। এরপর তারা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে জড়ো হন।
সেখানে দ্বিতীয় তলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। নিচতলায় একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর একটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের কাছে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ওই কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দিলে ভেতরে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ সময় শতাধিক গ্রাহককে ‘ব্যাংকে আমার টাকা, আমি কেন রাস্তায়?’—স্লোগান দিতে দেখা যায়। নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
আমানতকারী সামিনা আক্তার বলেন, ‘ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্যই টাকা জমিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দরকারে টাকা তুলতে পারছি না। সামনে ঈদুল আজহা, টাকা না পেলে হয়তো কোরবানি দিতে পারব না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’
এর আগে গত রোববার খাতুনগঞ্জেও আমানতকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েকটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।
সেখানে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী সমিতির চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম প্রশ্ন তোলেন, ‘গ্রাহকেরা আদৌ তাদের টাকা ফেরত পাবেন কি না? একীভূত ইসলামী ব্যাংকের নামে, নাকি আলাদা ব্যাংকের পরিচয়ে টাকা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা নিশ্চয়তা চাই।’
সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জীবনের সব সঞ্চয় আমরা নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে রেখেছিলাম। আর এখন নিজের টাকা তুলতেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। সামনে ঈদ, পরিবারের নানা দায়িত্ব আছে। আমরা দ্রুত আমাদের আমানত ফেরত চাই।’
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, ‘তালাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’