পাবনা সুগার মিলে ৬ মাস ধরে বেতন বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

গত ছয় মাস ধরে বেতন পান না রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে, প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিক ও কর্মচারীরা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে বেতনের পরিবর্তে চিনি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। তবে, বেতনের পরিবর্তে চিনি বরাদ্দের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরদী উপজেলার দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা আইনুল হক। তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন পাবনা সুগার মিলে ‘গ্যারেজ ফোরম্যান’ হিসেবে কর্মরত। কিন্তু, গত ছয় মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় নিজের পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আইনুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমি মিল থেকে কোনো বেতন পাইনি। দুই ঈদে উত্সব বোনাস পেয়েছি, কিন্তু বেতন পাইনি। বেতন না পাওয়ার কারণে মুদি দোকান এবং অন্যান্য দোকানে অনেক দেনা হয়ে গেছে। এখন আর কেউ আমাকে চাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিচ্ছে না।’

পাবনা সুগার মিল শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান উজ্জল জানান, তারা চলতি বছরের মার্চ থেকে বেতন বঞ্চিত। ফেলে, ৪০০ স্থায়ী কর্মীসহ সাত শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী তাদের পরিবারের ব্যয় পরিচালনা করতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন।

শ্রমিকরা বেতনের পরিবর্তে চিনি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে উল্লেখ করে আশরাফুজ্জামান উজ্জল বলেন, ‘আমরা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে বেতনের ব্যবস্থা করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই মিল থেকে চিনি বিক্রি না হওয়ায় তারা আমাদের জন্য কিছু করছে না। ফলে, আমারা অমানবিক জীবনযাপন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিল কর্তৃপক্ষের বেতন দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমরা চিনি বরাদ্দের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছি, যাতে শ্রমিক ও কর্মচারীরা এগুলো বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু, মিল কর্তৃপক্ষ এই দাবি মানছে না।’

পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনের পরিবর্তে চিনি বরাদ্দ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীরা মিলের কাছে প্রায় আট কোটি টাকা বেতন পাবেন। কিন্তু, মিলের গোডাউনে ২৪ কোটি টাকার অবিক্রিত চিনি আছে। আমরা যখন চিনি বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারব, তখন তাদের বেতন দিতে পারব।’

চিনি বিক্রি কেন বন্ধ হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সাইফুদ্দিন জানান, মিল গেটে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। যেখানে বেসরকারি কোম্পানির চিনি পাওয়া যাচ্ছে ৫৬-৫৭ টাকাতে। বাজারমূল্যের এই পার্থক্যের কারণে আমরা মিলের চিনি বিক্রি করতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিসিআইসির মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্কটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে, মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো দিকনির্দেশনা পাইনি।’

এদিকে, গতকাল বুধবার বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা পাবনা সুগার মিলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। আজ তারা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে এই সঙ্কটে বেতনের পরিবর্তে চিনি বরাদ্দের অনুরোধ জানান।