পিরোজপুরে চীনা নাগরিক হত্যায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর

পিরোজপুরের কঁচা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চীনা টেকনিশিয়ান প্যান ইয়ানজুন (৫৮) হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন আসামিসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত সিরাজ শেখ (৩৫) সদর উপজেলার গুয়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তার শেখের ছেলে এবং রানা (২৫) কুমারখালি গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে।

গতকাল বুধবার গভীর রাতে পিরোজপুর শহরে এক আত্মীয়র বাসা থেকে সিরাজকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রকল্পের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কাও চিয়েন হুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, প্রকল্পের টেকনিশিয়ান শাটারম্যান প্যান ইয়ানজুন স্থানীয় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য আড়াই লাখ টাকা নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিরমারা গ্রামে প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার সময় তার ওপর হামলা করা হয়। বুকের ডানদিকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রকল্পের কর্মীরা তাকে পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সদর উপজেলার কুমিরমারা গ্রামে প্রকল্প এলাকায় চীনা নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো প্রকল্প এলাকা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে শফিকুল ইসলাম জানান, প্রকল্প এলাকায় পুলিশের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেখানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকরা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তারকৃত সিরাজ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ধর্ষণ মামলায় কয়েক মাস জেল খাটার পর এক সপ্তাহ আগে জেল থেকে জামিনে বের হন তিনি। এরপরই গতকাল টাকা ছিনতাইয়ের সময় তিনি ওই চীনা নাগরিককে হত্যা করেন।

চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বরিশাল-পিরোজপুর-খুলনা সড়কের কঁচা নদীতে নির্মাণাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ ২০১৭ সালে শুরু হয়। ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর কাজ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় ৩৮ জন চীনা নাগরিক অবস্থান করছেন বলে জানান পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে।