লালমনিরহাটে রত্নাই খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

এস দিলীপ রায়

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় রত্নাই খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন, নিয়ম মেনে খাল খনন না করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে খাল ও পুকুর খনন প্রকল্পের আওতায় রত্নাই খালের তিন কিলোমিটার খননে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এক কোটি ৮১ লাখ ১১ হাজার ৭২০ টাকায় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।

চুক্তি অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনো ১৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।

স্থানীয় কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘রত্নাই খাল খননের নামে ঠিকাদার বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করেছেন। মাত্র কয়েকদিন ভেকু মেশিন (এক্সকেভেটর) দিয়ে মাটি খনন করা হয়েছে। এখনো ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নিয়ম মেনে খনন না করায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। খাল থেকে বালু তুলে রাখায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনের কাছে অভিযোগ করার পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। সে সময় তিনি চারটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেন। কিছু দিন পর ঠিকাদার আবারও নতুন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন।’

Ratna_Lake_Lalmonirhat_2_26.jpg
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, খাল খননের নামে ঠিকাদার বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করেছেন। ছবি: স্টার

আরেক কৃষক নাজির হোসেন বলেন, ‘রত্নাই খালটি সঠিকভাবে খনন না করায় এটি আমাদের কোনো উপকারে আসছে না। আগে যে রকম ছিল তাতেও আমরা উপকৃত হতাম।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন দাউদ দাবি করেন, খাল খননের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এলজিইডি মাত্র ৬৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেছে।

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালে এক্সকেভেটর নামানো যাচ্ছিল না। যে কারণে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। সেই বালু বিক্রি করা হয়নি, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।’

খননের পরেও পানিপ্রবাহ কেন নেই— জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্ষায় রত্নাই খালে আবারও মাটি ও বালু এসে ভরে গেছে। যে কারণে খালের কোথাও কোথাও পানিপ্রবাহ নেই।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথা সময়ে কাজ শেষ করেনি এ অভিযোগ স্বীকার করেছেন লালমনিরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রত্নাই খালের খনন কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

খাল খননের সুফল না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এই প্রকল্প সরকারি অর্থের লুটপাট ছাড়া কিছু না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করছেন— এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ড্রেজার পুড়িয়ে ফেলার পরে ঠিকাদারকে আর বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হয়নি। দফায় দফায় বন্যার কারণে খননকৃত রত্নাই খালটি আবারও ভরাট হয়ে গেছে। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি।’