‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ নিরাপত্তার ঢাল নাকি নজরদারির নতুন দেয়াল
ফেসবুকে যা লিখছেন বা লিখতে চাইছেন, তা কি ‘অপরাধ’ হয়ে যেতে পারে? সাধারণ একটি ‘মিম’, অসাধারণ একটি রাজনৈতিক ‘বাহাস’, স্রেফ একটি ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট, কিংবা নিষ্পাপ কোনো ‘শেয়ার’ কি দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে?
বাংলাদেশের সাইবার পরিসরে এই প্রশ্নগুলো নতুন নয়। তবে নতুন করে আবার অনেকের মনে ঘুরছে। কারণ, দেশে নতুন সাইবার আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। কেন এই নতুন আইন? কারণ ডিজিটাল দুনিয়ায় অপরাধ সত্যিই বেড়েছে। হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ফেক অ্যাকাউন্ট—এসব ঠেকাতে কার্যকর আইন দরকার। এ নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।
তবু উদ্বেগটা অন্য জায়গায়। আগের অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে। চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে বলেই এখন দই দেখেও অনেকে আঁতকে উঠছেন। কিন্তু আসল বিতর্ক ভিন্ন।
আইনে যদি ‘রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ বা ‘অবমাননা’র মতো অস্পষ্ট শব্দ থাকে, তাহলে সমস্যা শুরু হয়। কারণ তখন সমালোচনা, ব্যঙ্গাত্মক মিম, কার্টুন, এমনকি সাধারণ ফেসবুক পোস্টও ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। মানুষ তাই জানতে চাইছে—এই আইন কি অপরাধীকে ধরবে, নাকি সাধারণ মানুষকেও ভয় পাইয়ে দেবে?
আইনের শক্তি শুধু তার শাস্তিতে নয়, প্রয়োগেও। একই আইন একজন হ্যাকারকে থামাতে পারে, আবার ভুলভাবে ব্যবহার হলে একজন সমালোচকের কণ্ঠও থামিয়ে দিতে পারে।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুনের প্রশ্ন ছিল, কোন অস্ত্র কখন ব্যবহার করা উচিত? ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রের সামনেও একই প্রশ্ন। প্রযুক্তি শক্তিশালী, আইনও তাই। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটা কার বিরুদ্ধে, কীভাবে এবং কতটা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডিজিটাল সভ্যতা আমাদের হাতে এমন একটি আয়না তুলে দিয়েছে, যেখানে আমরা শুধু নিজেদের মুখই দেখি না; দেখি সমাজের অসংখ্য প্রতিচ্ছবি, মতামত, ভয়, আকাঙ্ক্ষা ও বিরোধের ছায়াও। কিন্তু এই আয়নার একটি অদৃশ্য দিকও আছে—যেখানে কেউ আমাদের দেখছে, তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আমাদের ডিজিটাল পদচিহ্নের মানচিত্র তৈরি করছে। তাই আজকের পৃথিবীতে তথ্য একই সঙ্গে আলো ও ছায়া; মুক্তির পথ ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে বিতর্ক আসলে এই আলো-ছায়ার সীমারেখা নির্ধারণের বিতর্ক—কোথায় নিরাপত্তার প্রাচীর প্রয়োজন, আর কোথায় সেই প্রাচীর নাগরিক স্বাধীনতার আকাশ ঢেকে দিতে পারে।
ডিজিটাল যুগে তথ্য এখন আর কেবল বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়; তথ্য নিজেই একটি শক্তি। যে তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়, যে তথ্য অদৃশ্য হয়ে যায়, কিংবা যে তথ্যকে ‘সত্য’ বা ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তার ওপর নির্ভর করে সমাজের চিন্তা, রাজনীতি ও জনমত অনেকাংশে গড়ে ওঠে। ফলে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্ক আসলে শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়; এটি ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আলোচনা।
সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্যোগের মূল যুক্তি হলো ডিজিটাল পরিসরে গুজব, অপতথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও, মানহানিকর কনটেন্ট এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। রাষ্ট্রের এই উদ্বেগকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ, আজ একটি ভুয়া তথ্য শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না; কখনো তা সামাজিক উত্তেজনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত, জনআস্থার সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটি হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে আমরা এমন কোনো কাঠামো তৈরি করছি কি না, যেখানে নিরাপত্তার দেয়াল ধীরে ধীরে নজরদারির দেয়ালে পরিণত হয়?
অনলাইন হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি কিংবা সাইবার জালিয়াতি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে একটি কার্যকর ‘নিরাপত্তার ঢাল’ অত্যন্ত জরুরি হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে আইনটির রাজনৈতিক চরিত্রই বারবার সামনে চলে আসে। যখনই কোনো আইন ভিন্নমতাবলম্বী বা সমালোচকদের দমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখনই এর মূল উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যায়। আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় সাধারণ মানুষের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ধারাগুলো তৈরি করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। আইনের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যখনই গ্রেপ্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়, তখন তা মানুষের সুরক্ষার বদলে একটি ভয়ের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
যোগাযোগ অধ্যয়নের দৃষ্টিতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন একটি নতুন জনপরিসর। এখানে মানুষ মত প্রকাশ করে, সংবাদ বিনিময় করে, রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নেয় এবং সামাজিক আন্দোলনের অংশ হয়। কিন্তু এই জনপরিসর সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। এখানে রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অ্যালগরিদম ও ব্যবহারকারীর আচরণ—সবকিছু মিলে তথ্য প্রবাহের একটি জটিল ব্যবস্থা তৈরি করে। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? রাষ্ট্র, নাকি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান? নাকি নাগরিক সমাজ?
বর্তমানে মেটা, ইউটিউব, এক্সসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কনটেন্ট মডারেশন নীতির মাধ্যমে নির্ধারণ করে কোন তথ্য থাকবে, কোনটি সীমিত হবে এবং কোনটি অপসারণ করা হবে। একদিকে এই ব্যবস্থা ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতারণা, সহিংসতার উসকানি কিংবা ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে প্রশ্ন থেকে যায়, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? কে নির্ধারণ করবে কোন বক্তব্য ক্ষতিকর আর কোনটি বৈধ মত প্রকাশ?
রাষ্ট্র যখন এসব প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার উদ্যোগ নেয়, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, এখানে দুটি শক্তিশালী পক্ষ মুখোমুখি দাঁড়ায়—একদিকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার যুক্তি, অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম নীতিমালা। মাঝখানে থাকে সাধারণ নাগরিক, যার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়।
এই জায়গাতেই ‘নজরদারি সমাজ’-এর ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আধুনিক নজরদারি আর শুধু ক্যামেরার চোখে সীমাবদ্ধ নেই; এখন তা ডেটা, অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নাগরিক কী দেখছেন, কী লিখছেন, কী শেয়ার করছেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি অদৃশ্য পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি হয়। প্রযুক্তি একদিকে যেমন নিরাপত্তার হাতিয়ার, অন্যদিকে এটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্কের মূল জায়গাটি এখানেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩, এরপর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং বর্তমান খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন—প্রতিটি পর্যায়ে আইনের নাম পরিবর্তন হয়েছে, কিছু ধারা বাতিল হয়েছে, কিছু সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক, আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের প্রশ্ন—আইনের ভাষা বদলালেও নিয়ন্ত্রণের দর্শনে কতটা পরিবর্তন এসেছে?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময় থেকেই ৮, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ ধারার মতো কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ ছিল। অভিযোগ ছিল, এসব ধারার অস্পষ্ট ভাষা স্বাধীন সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভয় তৈরি করেছে। কারণ, ডিজিটাল আইনের সবচেয়ে বড় প্রভাব অনেক সময় আদালতের রায় নয়; বরং মামলা, গ্রেপ্তার, ডিভাইস জব্দ ও সামাজিক চাপের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়।
নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারার বিষয় নতুন আইনের ২৩ ধারায় এসেছে। অন্যদিকে ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশের মতো অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল পরিসরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষার জন্য এসব বিধান প্রয়োজনীয়। কিন্তু একইসঙ্গে ‘মানহানিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ বা ‘ভীতি প্রদর্শক’ শব্দগুলোর ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হলে আইন অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত ২৬ ধারা। আগের আইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত যে বিতর্ক ছিল, নতুন আইনে তার পরিবর্তে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশের বিষয়টি রাখা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারণ, সমাজে সমালোচনা, ব্যঙ্গ, মতামত ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মধ্যে সীমারেখা সবসময় সহজে নির্ধারণ করা যায় না।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্ম, রাষ্ট্র, সরকার কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনা থাকবে। সেই সমালোচনা কখন বিদ্বেষে পরিণত হবে আর কখন তা নাগরিক মত প্রকাশের অংশ থাকবে, এই পার্থক্য নির্ধারণের দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালন করতে হবে।
সরকার মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের জন্য আইনে বিধানের কথা বলেছে এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, একটি মামলা নিজেই অনেক সময় শাস্তিতে পরিণত হয়। বিচার শেষ হওয়ার আগেই একজন ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত জীবন ও মানসিক স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অপরাধের পর প্রতিকার নয়; মামলা গ্রহণের আগেই যাচাই, স্বাধীন তদন্ত, কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছতা ও আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাইবার সুরক্ষা আইনকে সফল করতে হলে আমাদের মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা কোনো তালাবদ্ধ ঘর নয়, বরং খোলা জানালা। জানালা বন্ধ করে ঝড় ঠেকানো যায়, কিন্তু আলো-বাতাসও তখন প্রবেশ করতে পারে না। তাই প্রয়োজন এমন একটি আইন, যা ক্ষতিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ঢাল হবে, কিন্তু নাগরিক কণ্ঠের ওপর প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে না।
মহাভারতের অর্জুন যখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন কৃষ্ণ তাকে শুধু অস্ত্র চালানোর শিক্ষা দেননি; দিয়েছিলেন বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা। সাইবার আইন প্রণয়নেও রাষ্ট্রের প্রয়োজন সেই ‘বিবেকের দৃষ্টি’, যাতে শত্রু ও সমালোচকের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।
আর গ্রিক পুরাণের ইকারুসের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার ডানা যত শক্তিশালীই হোক, নিয়ন্ত্রণের সীমা ভুলে গেলে পতন অনিবার্য। ডিজিটাল ক্ষমতাও তেমন। নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ একসময় সেই ব্যবস্থারই আস্থা নষ্ট করতে পারে, যাকে রক্ষা করার জন্য আইন তৈরি করা হয়। তাই ভবিষ্যতের সাইবার সুরক্ষা আইনকে শুধু অপরাধ দমনের হাতিয়ার নয়, বরং একটি আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ নির্মাণের সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখতে হবে।
রাজীব নন্দী: সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; পিএইচডি রিসার্চ স্কলার, স্কুল অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত। rajibnandy@cu.ac.bd