শান্তর সেঞ্চুরি, মোস্তাফিজের ৫ উইকেটে সিরিজ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাট হাতে শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি পায় দল। এরপর বাকি কাজটুকু দারুণভাবে সেরেছেন বোলাররা, সামনে থেকে যার নেতৃত্ব দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর তাতেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইল ও'রর্কির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন সাইফ হাসান। আগের ম্যাচে আগ্রাসী ফিফটি হাঁকানো তানজিদ হাসান তামিম এবার ৫ বলে মাত্র ১ রান করে ওই ও'রর্কির বলেই প্লেড-অন হয়ে যান। এরপর সৌম্য সরকার কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ২৬ বলে ১৮ রান করে থার্ড ম্যানে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। মাত্র ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দল।

সেই খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। শুরুর চাপ সামলে দুজনেই অনবদ্য ফিফটি তুলে নেন, গড়েন ১৬০ রানের চমৎকার এক জুটি। লিটন শুরুতে দেখেশুনে খেললেও পরে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। নিজের প্রথম বাউন্ডারি পেতে তাকে ৬০ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও, প্রচুর সিঙ্গেল-ডাবলসে রানের চাকা সচল রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে ৭৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে স্পিনার লিনক্সের বলে বোল্ড হন লিটন।

সঙ্গী ফিরলেও শান্ত তার সহজাত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। ঠান্ডা মাথায় খেলে ১১৪ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার পর ১১৯ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করে ক্যাচ আউট হন তিনি। তবে শেষদিকে ব্যাটাররা প্রত্যাশামতো ঝড় তুলতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ বলে ২২ রান করে ফিরলেও তাওহিদ হৃদয় ২৯ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে উইল ও’রর্কি ৩২ রানে ৩টি উইকেট নেন।

২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় কিউইরা। দলীয় ৮ রানেই হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিক কেলি ও উইল ইয়ং ৪৬ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ইয়ংকে শিকার করে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা।

এরপর টম ল্যাথামকে দ্রুতই সাজঘরে ফেরান অধিনায়ক মিরাজ। কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস ৪৭ রানের আরেকটি জুটি গড়লেও, কেলিকে ফিরিয়ে মোস্তাফিজ নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। কেলির ব্যাট থেকে আসে দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮০ বলে ৫৯ রান। আব্বাস করেন ২৫ রান।

পেসারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো কিউইরা এক পর্যায়ে ১৬০ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে। তখন বিশাল পরাজয় মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু শেষ উইকেটে বেন লিস্টারকে নিয়ে অবিশ্বাস্য এক লড়াই করেন ডিন ফক্সক্রফট।

এক প্রান্ত আগলে রেখে কোনো চার না মেরেই কেবল ৭টি ছক্কায় তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি, খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৭৫ রানের ইনিংস। শেষ উইকেটে তারা গড়েন ৫০ রানের জুটি। অবশেষে মিরাজের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅফে সাইফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফক্সক্রফট ফিরলে কিউইদের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

বল হাতে বাংলাদেশের জয়ের মূল নায়ক ছিলেন মোস্তাফিজ। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। ৪৩ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি। এছাড়া নাহিদ রানা ও মিরাজ প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।