দক্ষিণ আফ্রিকার পেস-বাউন্সে কঠিন বাস্তবতা দেখল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে পেস আর বাউন্সের পরীক্ষা দিতে হবে—তা জানা কথা। কিন্তু সিরিজের শুরুতেই এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে, তা হয়তো ভাবেনি বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। প্রিটোরিয়ার গ্রোয়েনক্লুফ ওভালে স্বাগতিকদের গতির মুখে দাঁড়াতেই পারলেন না সফরকারী ব্যাটাররা। ফলাফল, মাত্র ৮৯ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটের বড় হার।

শনিবার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের নিজেদের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। প্রোটিনিয়া বোলারদের নিখুঁত লাইন-লেংথ আর বাউন্সের সামনে শুরু থেকেই খাবি খেতে থাকেন ওপেনার থেকে শুরু করে টপ অর্ডারের সবাই। পুরো ইনিংসে একাই লড়াই চালিয়াছেন ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। ৭৩ বলে সতর্কতার সঙ্গে খেলে ৪০ রান করেন তিনি।

মাহফিজুল ছাড়া আর মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন—আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (১১) ও সামিউন বশির (১০)। এমনকি জাতীয় দলে খেলে ফেলা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও পেসের তাণ্ডবে ক্রিজে হাঁসফাঁস করেছেন; ২৮ বল খেলে আউট হন মাত্র ২ রানে। ৩০.২ ওভারেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।

বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে ধস নামানোর মূল কারিগর প্রোটিনিয়া পেসার দিয়ান গালিয়েম। ৮.২ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৫টি উইকেট। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ২ উইকেট নেন আন্দিলে মগাকানে।

৯০ রানের সামান্য লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো রকম ঝুঁকিতেই যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮.৪ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা। দলের সহজ জয়ে রিচার্ড সিলেটসওয়ানে ৩৫ এবং মিচেল ভ্যান বুরেন ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে একাই কিছুটা লড়াই করে ৪ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট নেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান।

প্রথম ম্যাচেই কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের গতির কাছে একপ্রকার দিশেহারা হলেও টুর্নামেন্টে ফেরার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। আগামী সোমবার প্রিটোরিয়ার টুকস ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউএসএসএ-র মুখোমুখি হবে সফরকারীরা। সেখানে ব্যাটিংয়ের এই ভুলগুলো শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন দলের মূল লক্ষ্য।