ভারতে বয়স জালিয়াতির দায়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারসহ ৬৫ জন নিষিদ্ধ

স্পোর্টস ডেস্ক

বয়স জালিয়াতির দায়ে ভারতের সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ মোট ৬৫ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। এই তালিকায় আছেন সম্প্রতি যুব দলে খেলা লেগ স্পিনার রোহিত যাদবও।

শুক্রবার ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, সিএবি তাদের খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিলে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে।

দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া রোহিত ছাড়াও একই অপরাধে আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। সেখানে সবচেয়ে বড় নামটি হলেন বাঁহাতি পেসার রবি। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

একই বছর বেঙ্গলের হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল রবির। তবে ২০২৩ সালের পর আর সুযোগ পাননি ম্যাচ খেলার। তার বয়সের ক্ষেত্রে ৪০ মাসেরও বেশি গরমিল পাওয়া গেছে। এই জালিয়াতির কারণে অভিষেক থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তার সব পরিসংখ্যান অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে।

স্পিনার রোহিত চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করেছিলেন। তদন্ত করে তার বয়সের ক্ষেত্রে ২৭ মাসের গরমিল পেয়েছে সিএবি। জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১০— বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেঙ্গলের হয়ে খেলা রোহিতের এই তিনটি ভিন্ন জন্মসালের তিনটি আলাদা জন্মনিবন্ধন সনদ পাওয়া গেছে।

এর আগে চলতি মাসের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া যুব দলের বিপক্ষে হতে যাওয়া সিরিজের দল থেকে রোহিতকে বাদ দেওয়া হয়। বিসিসিআইয়ের অধিভুক্ত সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে তার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এই শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

বয়স জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান ঘটনা ঠেকাতে অতীতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল বিসিসিআই। ২০২০ সালে শাস্তির বিধানের পাশাপাশি একটি সাধারণ ক্ষমা প্রকল্পের প্রস্তাব করেছিল তারা। এই নিয়মের অধীনে, নিবন্ধিত খেলোয়াড়রা স্বেচ্ছায় নিজেদের আসল জন্মতারিখ জানিয়ে গরমিলের কথা স্বীকার করলে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারতেন। কিন্তু তথ্য গোপন বা জালিয়াতি ধরা পড়লে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হতো।

ভারতে বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্মনিবন্ধন সনদের পাশাপাশি স্কুল বা কলেজের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ যত বেশি সম্ভব নথিপত্র জমা দিতে হয়।