ভারতকে সাদা বলের ক্রিকেটের ‘মানদণ্ড’ মানছেন পাকিস্তান কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলাদা কোনো ব্যাখ্যা প্রয়োজন হয় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে দুই দলের ব্যবধানও বেশ স্পষ্ট। ভারত যেখানে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে, পাকিস্তান সেখানে প্রতিরোধ গড়লেও সেই লড়াইকে নিয়মিত সাফল্যে রূপ দিতে পারেনি। সেই বাস্তবতাই এবার অকপটে স্বীকার করলেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন। তার চোখে সাদা বলের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে ভারতই মানদণ্ড, আর পাকিস্তানের লক্ষ্য সেই জায়গায় পৌঁছানো।

জাপানে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ এশিয়ান গেমসে অবশ্য ভারত-পাকিস্তানের আরেকটি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ দুই দল মুখোমুখি হতে পারে কেবল ফাইনালে। তার আগে নিজেদের নিজ নিজ পথ পেরিয়ে ফাইনালে উঠতে হবে তাদের।

জাপান যাওয়ার আগে করাচিতে পাকিস্তানের প্রস্তুতি ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হেসন বলেন, ‘এই মুহূর্তে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতই মানদণ্ড। তাদের পর্যায়ে পৌঁছানোই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও হেসনের কথার পক্ষে। দুই দলের সর্বশেষ ছয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত। এর মধ্যে ২০২৫ এশিয়া কাপেই তিনবার পাকিস্তানকে হারিয়েছে তারা। একটি ম্যাচে পাকিস্তান লড়াই জমিয়ে তুলতে পারলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ভারতই।

এবার অবশ্য এশিয়ান গেমসে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে যাচ্ছে না পাকিস্তান। বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দলে নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। দলে আছেন এমন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার, যারা এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তবে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতির কারণে দলটিকে দুর্বল মনে করছেন না হেসন। পাকিস্তান কোচ বলেন, ‘বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ রিজওয়ান না থাকলেও এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক দল।’

হেসনের কাছে এশিয়ান গেমস শুধু পদক জয়ের মঞ্চ নয়, তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণের সুযোগও। বহুজাতিক এই আসরের চাপের মধ্যে নতুনদের খেলার অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

পাকিস্তান কোচ বলেন, ‘নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর জন্য এশিয়ান গেমস দারুণ একটি মঞ্চ। সাহিবজাদা ফারহানের জন্যও এটি অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের দারুণ সুযোগ।’