পাকিস্তানের কাছে হেরে সোনার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃষ্টির কারণে এশিয়ান কাপে এতদিন অপেক্ষার পর সেমিফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু মাঠে ফিরেও স্বস্তি পেল না টাইগাররা। ব্যাটারদের আরেকটি ব্যর্থ দিনে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এশিয়ান কাপে সোনার স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের।

জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান কাপের ক্রিকেট ইভেন্টের সেমিফাইনালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সাহিবজাদা ফারহানের দল।

আগে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো বড় পুঁজি তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় ও সাইফ হাসান ছাড়া কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি। সেই সাদামাটা পুঁজিকে রক্ষা করার দায়িত্ব ছিল বোলারদের ওপর। কিন্তু তারাও খুব একটা জ্বলে উঠতে পারেননি। বিশেষ করে পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বেদম পিটুনি খেতে হয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটারদের কাছে। দুই ওভারে হজম করেছেন ৪১ রান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। দলীয় ২১ রানেই হারায় তিন উইকেট। ছক্কা মারার পরের বলেই আরাফাত মিনহাসকে হাঁকাতে গিয়ে মিড-অফে ক্যাচ তুলে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান। ৭ রানেই ফিরতে হয় তাকে। এরপর মাত্র তিন বল খেলে সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন অধিনায়ক লিটন দাস (২)। পরের ধাক্কা আসে পারভেজ হোসেনের (১) উইকেটে। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

আরেক ওপেনার সাইফ হাসান অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। ষষ্ঠ ওভারে তার সঙ্গে তাওহিদ হৃদয় দুটি ছক্কা মেরে ইনিংস ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু পরের ওভারেই সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সাইফ। আউট হওয়ার আগে ১৯ রান করেন তিনি।

এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয়। এক প্রান্তে কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করে তিনিই মূলত বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন। চারটি ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে ৪৫ রান করেন হৃদয়। দলীয় রান একশ পেরোনোর পর আরও একটি ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় সাইম আইয়ুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের দুটি চারে ১১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তানকেও অবশ্য শুরুতে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান। পরের ওভারে মাজ সাদাকাতের হাতে দুটি চার হজম করলেও তাকে ফিরিয়ে দেন নাসুম আহমেদ। এরপর পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে পেয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন সাইম আইয়ুব। টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারার পর অবশ্য নিজের উইকেট দিয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর উসমান খানকেও ফিরিয়ে বাংলাদেশের আশার আলো জ্বালিয়ে রাখেন রিশাদ হোসেন। কিন্তু এরপরই ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে থাকে বাংলাদেশের। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে আব্দুল সামাদ উইকেটে নেমেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তাতে দ্রুতই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে টাইগাররা।

বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের করা দশম ওভারটি কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হজম করার পর টানা চারটি বাউন্ডারি দেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ পেসার। সেই ওভারেই পাকিস্তান ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা।

অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে কমবেশি অবদান রেখেছেন অন্যরা। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। হাসান নাওয়াজ ২২ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৭ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।