পুরুষদের সমান প্রাইজমানির দাবি, তোপের মুখে এএফসি

স্পোর্টস ডেস্ক

নারী এশিয়ান কাপের দুই ফাইনালিস্ট জাপান ও অস্ট্রেলিয়া পুরুষদের টুর্নামেন্টের সমান প্রাইজমানির দাবি নতুন করে জোরালো করেছে। বৃহস্পতিবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কাছে এই দাবি তোলার পাশাপাশি নিজেদের আগের অনুরোধগুলো 'উপেক্ষা' করার জন্য এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছে তারা।

গত ২১ মার্চ সিডনিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে জাপান। ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করেন ৭৪ হাজারেরও বেশি দর্শক, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে রেকর্ড।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত মাসের নারী এশিয়ান কাপের মোট প্রাইজমানি ছিল ১৮ লাখ মার্কিন ডলার (১.৮ মিলিয়ন), যা ২০২২ সালের আসরের সমান। অথচ পুরুষদের এশিয়ান কাপে প্রাইজমানি দেওয়া হয় এর চেয়ে বহুগুণ বেশি, ১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার (১৪.৮ মিলিয়ন)।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, এই টুর্নামেন্ট থেকে ৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার (৮২.৪ মিলিয়ন) পর্যন্ত রাজস্ব আয় হতে পারে। তিন সপ্তাহের এই টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৩ লাখ ৫০ হাজার দর্শক মাঠে বসে খেলা দেখেছেন।

বৃহস্পতিবার ফিফপ্রোর মাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া দল বলেছে, 'টুর্নামেন্টের অভাবনীয় সাফল্য সত্ত্বেও এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম অর্থপ্রদানকারী মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট হিসেবেই রয়ে গেছে এবং পুরুষ ও নারী ফুটবলের মধ্যে বৈষম্য এখনো বিদ্যমান।'

'সমান প্রাইজমানি, সব খেলোয়াড়ের জন্য নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা এবং ফুটবলের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে একসাথে কাজ করার জন্য টুর্নামেন্টের আগে এএফসি-কে আমরা যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, তা এখন পর্যন্ত উপেক্ষা করা হয়েছে।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'সমান প্রাইজমানি এশিয়াজুড়ে সমস্ত খেলোয়াড় এবং ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের অঞ্চলে ফুটবলের সব স্তরে মান বাড়াতে সাহায্য করবে। সমতা স্বল্পমেয়াদে খেলোয়াড়দের এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবলকে লাভবান করে।'

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, টুর্নামেন্টটি এমন একটি প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে বিরাজমান প্রকৃত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এএফসি এবং খেলোয়াড়দের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন। এতে ইরানের দলের দুর্দশা এবং ভারতের খেলোয়াড়দের মাপমতো জার্সি (কিটস) না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পুরুষ দলের তুলনায় জাতীয় ফেডারেশনের 'বাজে' আচরণের প্রতিবাদে ১২ দলের এই টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া দল।

'এই চ্যালেঞ্জগুলো কেবল একসাথে কাজ করলেই মোকাবিলা করা সম্ভব,' বিবৃতিতে যোগ করা হয়। 'সামনের দিনগুলোর দিকে তাকালে, আমরা আশা করি ফিফা ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপের জন্য সমান প্রাইজমানি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তারা রক্ষা করবে। আর আমরাও আমাদের অঞ্চলে নারী খেলোয়াড়দের সমতা এবং সম্মানের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।'

এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কুয়ালালামপুরভিত্তিক এএফসি-র সাথে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।