ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান: বর্ণবাদী নয়, স্পেনকে সহনশীল দেশ বলছেন রিয়াল কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া স্পেনকে বর্ণবাদী নয়, বরং একটি সহনশীল দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও সম্প্রতি স্প্যানিশ জাতীয় ফুটবল দলের একটি ম্যাচে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠে কর্নিয়ার আরসিডিই স্টেডিয়ামে মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে লা রোহারা। খেলা চলাকালীন গ্যালারির একটি অংশ থেকে 'তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম' বলে স্লোগান দেওয়া হয়। ইসলাম ধর্মের অনুসারী লামিন ইয়ামাল স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের 'অজ্ঞ ও বর্ণবাদী' বলে সমালোচনা করেছেন। স্লোগানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু স্পেন ও বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড না হলেও তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবেই নিয়েছেন।

কিছু মানুষের বর্ণবাদী মনোভাব দূর করার ওপর জোর দিলেও সামগ্রিকভাবে আরবেলোয়া তার জন্মভূমি স্পেনের পক্ষ নিয়েছেন। শুক্রবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, স্পেন কোনো বর্ণবাদী দেশ নয়। যদি তাই হতো, তবে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি স্টেডিয়ামেই আমাদেরকে সমস্যায় পড়তে হতো। আমি বিশ্বাস করি, স্টেডিয়ামের ভেতরে ও সমাজে যে কোনো ধরনের বর্ণবাদী মনোভাব আমাদের নির্মূল করতে হবে... একটি দেশ হিসেবে স্পেনকে এই মানসিকতা দূর করতে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।'

স্প্যানিশদের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ডিফেন্ডার যোগ করেন, 'তবে আমি মনে করি, আমরা একটি দারুণ ও অত্যন্ত সহনশীল দেশ এবং এই ধরনের পরিস্থিতির কারণে আমাদের ঢালাওভাবে মন্তব্য করা উচিত নয়।'

আরবেলোয়ার শিষ্য ও ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বেশ কিছু আলোচিত ঘটনায় বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকরা রিয়ালের অনুশীলন মাঠের কাছের একটি ব্রিজে তার কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

এর চার মাস পর ভ্যালেন্সিয়ার মেস্তায়া স্টেডিয়ামে গালিগালাজ করতে থাকা দর্শকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। ওই ঘটনাটি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থন তৈরি করে। তারপর গত বছর রিয়াল ভায়াদোলিদের পাঁচ সমর্থক আদালতের রায়ে ঘৃণা প্রসূত অপরাধে (হেট ক্রাইম) দোষী সাব্যস্ত হয়, যারা ২০২২ সালের একটি ম্যাচে ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছিল। স্পেনের কোনো ফুটবল স্টেডিয়ামে গালিগালাজের ঘটনায় এটিই ছিল এই ধরনের প্রথম সাজা।

এমন আচরণের প্রতিবাদ জানানোয় ইয়ামালের প্রশংসা করে বার্সেলোনার জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, 'আমরা অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাস করি... এটা হতাশাজনক যে, কিছু নির্বোধ এটা বোঝে না। আমরা সবাই শ্রদ্ধা পেতে চাই। আপনার গায়ের রং, ধর্ম বা অঞ্চল যাই হোক না কেন, এই চিন্তাগুলো পরিবর্তনের সময় এসেছে।'

অ্যাতলেতিকোর আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো সিমিওনে মনে করেন, এই সমস্যাটি বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধার অভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত, 'এটি একটি সামাজিক সমস্যা, যা বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান। এটি কেবল স্পেন, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের বিষয় নয়। শ্রদ্ধা করার মনোভাব অনেক বছর আগেই হারিয়ে গেছে— পিতামাতা, স্কুলের শিক্ষক, পুলিশ, ক্লাব পরিচালক, কোচ বা প্রেসিডেন্টদের প্রতি যে শ্রদ্ধা থাকা উচিত ছিল, আজ তা নেই।'

কাতালুনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করে বলেন, 'আমরা মুষ্টিমেয় কিছু অসভ্য মানুষকে স্পেনের বাস্তবতাকে কলঙ্কিত করতে দিতে পারি না। স্পেন একটি বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল দেশ।'