স্বপ্নভঙ্গের পর ইতালির কোচের পদ ছাড়লেন গাত্তুসো

স্পোর্টস ডেস্ক

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালির ফুটবলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় দেশটির জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়লেন জেন্নারো গাত্তুসো। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই মিডফিল্ডার আজ্জুরিদের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যে সরে দাঁড়ালেন।

মঙ্গলবার রাতে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ফের বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকছে ইতালি। এর রেশ ধরে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা— যিনি গাত্তুসোকে নিয়োগ দিয়েছিলেন— তিনি আগেই পদত্যাগ করেন।

বসনিয়ার মাঠে জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে হারের পরপরই গাত্তুসোকে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন গ্রাভিনা। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার তার ও জাতীয় দলের জেনারেল ম্যানেজার জানলুইজি বুফনের বিদায়ের পর গাত্তুসোর সরে দাঁড়ানো ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্রবণ গাত্তুসো হারের জন্য ক্ষমা চেয়ে স্বীকার করেছিলেন যে, এটি 'হজম করা কঠিন'। আর শুক্রবার বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, 'অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি, আমরা নিজেদের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, তা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমার সময় শেষ বলে মনে করছি।'

৪৮ বছর বয়সী এই কোচ যোগ করেন, 'আজ্জুরিদের জার্সি আমার কাছে ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই এখন থেকেই ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের পথ সহজ করে দেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল এবং এমন একদল খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা এই জার্সির প্রতি নিবেদন ও ভক্তি দেখিয়েছে।'

গত বছরের জুনে লুসিয়ানো স্পালেত্তির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন গাত্তুসো। ২০২৪ সালের ইউরোতে শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ায় স্পালেত্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

কাগজে-কলমে গাত্তুসোর রেকর্ড বেশ আকর্ষণীয়— আট ম্যাচে ছয় জয়, এক হার ও এক ড্র। এই ম্যাচগুলোতে ইতালি ২২টি গোল করেছে এবং হজম করেছে ১০টি। তাদের একমাত্র ড্রটি ছিল বসনিয়ার বিপক্ষে, যেখানে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে হয় স্বপ্নভঙ্গ। আর একমাত্র হারটি ছিল ঘরের মাঠে সান সিরোতে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে।

ক্লাব পর্যায়ে কোচ হিসেবে অনিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণে স্পালেত্তির উত্তরসূরি হিসেবে গাত্তুসোকে বেছে নেওয়াটা অনেকের কাছেই তখন ছিল বিস্ময়কর। বসনিয়ার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এর জেরে শেষমেশ দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে হলো তাকে।