রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ফাইনালের পেনাল্টি শুটআউটে ফল নির্ধারণী স্পট-কিক। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান এমন প্রবল চাপের মুহূর্তে অনুপম সাহসের পরিচয় দিয়ে এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর অটল আস্থা রেখে নিলেন পানেনকা শট। বল জালে জড়াতেই উৎসবে মেতে উঠল বাংলাদেশ শিবির— খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে গ্যালারিতে তীব্র সমর্থন দিয়ে যাওয়া দর্শকরা। শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে আসরের রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। অতিরিক্ত সময়ের নিয়ম না থাকায় ম্যাচ সরাসরি গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে রোনান ও গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিনের নৈপুণ্যে বাজিমাত করে মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিংয়ের নেওয়া প্রথম শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন ইসমাইল। এরপর জাল কাঁপান মোহাম্মদ আরবাস, স্যামসন অহংসাংবম ও বিশাল যাদব। পঞ্চম শটটি গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বাইরে মারেন ওমং দোদুম। অন্যদিকে, বাংলাদেশের হয়ে জালের দেখা পান মুর্শেদ আলী, চন্দন রায়, আব্দুল রিয়াদ ফাহিম ও রোনান। চতুর্থ শটটি নিয়ে ক্রসবারে মেরে মিস করেন স্যামুয়েল রাকসাম।
রাকসাম যখন স্পট-কিক নিতে এগিয়ে যান, ঠিক তখনই এক মনস্তাত্ত্বিক নাটকের অবতারণা করেন ভারতের গোলরক্ষক সুরাজ সিং। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে তিনি মাঠে শুয়ে পড়লে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। বাংলাদেশের মোমেন্টামে ধাক্কা লাগে সেখানে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুরাজ ফিরে আসার পর রাকসামের জোরাল শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে চারটি করে স্পট-কিক শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩।
তবে স্নায়ুর এই লড়াইয়ে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি ভারত। দোদুম ব্যর্থ হওয়ার পর রোনান চাপের মুখে ইস্পাতকঠিন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে সুরাজকে বোকা বানান পানেনকা শটে। তাতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের বাঁধনহারা বিজয়োল্লাস।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের এক ‘ফাঁড়া’ থেকে মুক্তি পেল ২০২৪ সালের আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৫ সালে সাফের এই বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার তিনটি ফাইনালে প্রতিবেশীদের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা জুটেছিল তাদের। এবার সেই বৃত্ত ভেঙে নতুন করে ইতিহাস লিখল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আর চলতি আসরের গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাৎ শেষ হয়েছিল ১-১ ড্রয়ে।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায় মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলো মোট আটবার। এর মধ্যে ভারত সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নেপাল ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে দুবার। এবার শিরোপা জিতে তাদের পাশে নাম লেখাল বাংলাদেশ।