রঙহীন পারফরম্যান্সেও সেমিতে আর্সেনাল

স্পোর্টস ডেস্ক

জয়ের উচ্ছ্বাস ছিল না, ছিল কেবল দায়িত্বের ভার আর লক্ষ্যপূরণের চাপ। চোখ ধাঁধানো ফুটবল নয়, বরং হিসেবি খেলার মাধ্যমে নিজেদের কাজ সেরে নিল আর্সেনাল। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল মিকেল আর্তেতার দল, যদিও পথটা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও রঙহীন।

লিসবনে প্রথম লেগে শেষ মুহূর্তে কাই হাভার্টজের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়েই এমিরেটসে নামে আর্সেনাল। কিন্তু ঘরের মাঠে তারা নিজেদের সেই পরিচিত আগ্রাসী রূপ খুঁজে পায়নি। স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগ শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লন্ডনের ক্লাবটি।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই ছিল সতর্ক, যেন ভুল না করাই ছিল মূল লক্ষ্য। আক্রমণের ঝুঁকি নেওয়ার বদলে রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতেই বেশি মনোযোগ দেয় উভয় পক্ষ। প্রথমার্ধে মাঝে মধ্যে এবেরাচি ইজের ঝলক আর ননি মাদিয়েকে ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির উইং দিয়ে কিছু চেষ্টা ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যায়নি। মাঝমাঠে মার্টিন ওদেগার্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে আর্সেনালের পাসিং ও ছন্দ ছিল ভঙ্গুর।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে, যখন ম্যাক্সি আরাহোর ক্রস থেকে জেনি কামাতোর জোরালো ভলি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতি খুব একটা বদলায়নি। আরাহোর আরেকটি আক্রমণ কিছুটা শঙ্কা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগাতে পারেনি স্পোর্টিং।

ম্যাচের এক পর্যায়ে চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন আর্তেতা। প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষে নিষ্প্রভ থাকা ভিক্তর গায়কারেসকে তুলে নিয়ে নামান হাভার্টজকে। একই সঙ্গে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মাদুয়েকেকে, তার জায়গায় নামানো হয় তরুণ ম্যাক্স ডওমানকে।

শেষদিকে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়, যখন বদলি হিসেবে নামা লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের হেড পোস্টে লাগে। তবে স্পোর্টিংয়ের পক্ষে ইতিহাস গড়া আর সম্ভব হয়নি। পুরো ম্যাচে তাদের প্রধান গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগই পাননি, এটাই ছিল আর্সেনালের বড় সাফল্য।

তবে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল না খেলেও নিজেদের কাজ ঠিকই করেছে আর্সেনাল। এখন সেমিফাইনালে তাদের অপেক্ষা করছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, যারা বিদায় করে দিয়েছে আরেক স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনাকে।