বিশ্বকাপে খেলবে ইরান, দৃঢ় বার্তা ইনফান্তিনোর
যুদ্ধের উত্তাপ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর নিরাপত্তা শঙ্কার ভেতরেও ফুটবল যেন নিজের আলাদা এক ভাষায় কথা বলতে চায়। একটা ভাষা, যেখানে বিভাজনের বদলে থাকে সংযোগের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকেই সামনে রেখে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন জিয়ান্নো ইনফান্তিনো। তার বিশ্বাস, সব বাধা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে খেলবে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, এমনকি দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীর আশঙ্কা অনুযায়ী ইরানের অংশগ্রহণ সম্ভব নয় বলেই ধারণা। এসবকিছুকে ছাপিয়ে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, 'ইরানকে আসতেই হবে। তারা তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, খেলোয়াড়রাও খেলতে চায়।”
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খেলোয়াড়দের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে তাতে ফিফা সভাপতির অবস্থান বদলায়নি।
সম্প্রতি তুরস্কের আনতালিয়ায় ইরান দলের অনুশীলন ক্যাম্প পরিদর্শন করে ইনফান্তিনো জানান, দলটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার মতে, 'খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। আমরা সবাই জানি, পৃথিবীর বাস্তবতা ভিন্ন, কিন্তু কেউ যদি সেতুবন্ধন গড়ার কথা না ভাবে, তাহলে অন্তত আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।'
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য আসরে ইরান গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু, এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে।
পরবর্তী রাউন্ডে উঠলেও ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদিও নিরাপত্তা ইস্যুতে ইরান তাদের ম্যাচ মেক্সিকোতে সরানোর অনুরোধ জানিয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে ফিফা।
বিশ্বকাপ ঘিরে উদ্বেগ শুধু রাজনৈতিক নয়, নিরাপত্তা এবং দর্শক ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই ৫০০ মিলিয়নের বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে, যা ‘অভূতপূর্ব চাহিদা’। ২১১টি দেশের দর্শক এই আসরে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা ফুটবলের বৈশ্বিক আবেদনকেই তুলে ধরে।
ফিফা সভাপতির কাছে সফল বিশ্বকাপের সংজ্ঞাও স্পষ্ট। নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া একটি মসৃণ আয়োজন, আর মাঠে দর্শকদের জন্য দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। যুদ্ধ আর বিভেদের মাঝেও ফুটবল যদি আনন্দ, উত্তেজনা আর একতার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় জয়।