এত তাড়াতাড়ি অভিষেক হবে ভাবেননি শুকি, তবে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে এত তাড়াতাড়ি অভিষেক হবে, তা ভাবেননি শুকি ইতোফুসা। তবে সুযোগ যখন আসে, তখন নিজেকে প্রমাণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন জাপানে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড।

গতকাল শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে ফাহামেদুল ইসলামের বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন ২২ বছর বয়সী শুকি। ম্যাচটিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে হেরে যায়। তবে মাঠে কাটানো ৪৫ মিনিটে নিজের সামর্থ্যের কিছুটা ঝলক ঠিকই দেখান এই তরুণ।

শুকির কাছে ম্যাচটির তাৎপর্য ফলাফল ছাপিয়েও অনেক বড় কিছু ছিল। কারণ, বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন তার ছিল ছোটবেলা থেকেই।

শনিবার দলের অনুশীলনের পর সাংবাদিকদের শুকি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো এবং দেশের হয়ে মাঠে নামা আমার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

প্রথম ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্সে আরও উন্নতির জায়গা দেখছেন শুকি। বিশেষ করে ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে বেশি আগ্রহী তিনি, ‘গতকালের ম্যাচে আমার পারফরম্যান্সের কথা বললে, এখনো কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে। ফিটনেস ও কন্ডিশনিংয়ের উন্নতি করতে আমি কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। একই সঙ্গে গোল করে ও অ্যাসিস্ট করে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চাই।’

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন শুকি। তবে দলে ডাক পাওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই যে সেটা এসে যাবে, তা প্রত্যাশা করেননি তিনি, ‘আমি আসলে কখনোই ভাবিনি যে গতকালই আমার অভিষেক হবে। তবে দেশের হয়ে লড়াই করতে আমি প্রস্তুত ছিলাম।’

ভাষাগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সতীর্থদের কারণে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে মানিয়ে নেওয়াটা শুকির জন্য সহজ হয়েছে। দলের বাকিরা জাপানি ভাষা না বুঝলেও যোগাযোগের জন্য তারা সহজ একটি উপায় বের করে নিয়েছেন, ‘আমার সতীর্থরা ইংরেজি ভাষা বা সাধারণ কিছু ইশারা ব্যবহার করে, যা আমি কিছুটা বুঝতে পারি। আমার কয়েকজন সতীর্থ সব সময় আমার খোঁজখবর নেয় এবং আলাপ করে। তাই আমি এখন তাদের সঙ্গে মোটামুটি যোগাযোগ করতে পারি।’

দলের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শুকি, ‘আমি এখানকার সময়টা সত্যিই খুব উপভোগ করছি এবং এখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’