রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করছে ম্যান সিটি, বাড়ছে আইনি জটিলতা
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। এর মধ্য দিয়ে ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপিল করতে যাচ্ছে ক্লাবটি।
প্রায় এক দশক ধরে আয় বাড়িয়ে দেখাতে এবং খরচ কমিয়ে দেখাতে ‘ভুয়া’ বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ম্যান সিটি ৯০ কোটি পাউন্ডের বেশি কারচুপি করেছে বলে রায় দিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের এক স্বাধীন কমিশন। দলটি অবশ্য শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়ম করার কথা অস্বীকার করে আসছে। তারা এবার এই রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
সিটিজেনদের দাবি, তাদের কাছে এমন কিছু ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে, যা তাদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করবে। তাদের যুক্তি হতে পারে, ক্লাবটির মালিকপক্ষ নয়, বরং আবুধাবি সরকার স্পনসরশিপ চুক্তিতে আংশিক অর্থায়ন করেছিল।
প্রিমিয়ার লিগের নতুন ফাস্ট-ট্র্যাক নিয়ম অনুযায়ী, আপিল দায়েরের ১২ সপ্তাহের মধ্যে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং শুনানি শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রায় জানাতে হবে। তবে সিটির পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হতে পারে যে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন তাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ আনা হয়েছিল, তখন এই নিয়মগুলো কার্যকর ছিল না।
ম্যানচেস্টার সিটির এই সংকট অবশ্য কেবল ফুটবলীয় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর পরিধি আরও অনেক দূর গড়িয়েছে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার স্বাধীন কমিশনের রায়ে বলা হয়, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত গুরুতর আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের সব অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগেও চারটির মধ্যে তিনটিতে দোষী হয়েছে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের ক্লাবটি।
ক্রীড়া আইনজীবীদের ধারণা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছর ধরে আরও আইনি লড়াই চলবে। কারণ, সিটির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, খেলোয়াড় ও এজেন্টরা ক্ষতিপূরণ দাবি করার যৌক্তিক আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।

