এল ক্লাসিকোতে খেলবেন ভিনিসিয়ুস? কি শাস্তি পাচ্ছেন তিনি?

স্পোর্টস ডেস্ক

বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর এবার একাধিক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের শাস্তি সর্বনিম্ন দুই ম্যাচ হলেও আগামী ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠেয় এল ক্লাসিকোতে তার খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ। চার ম্যাচ পর্যন্তও হতে পারে এই নিষেধাজ্ঞা।

লালিগায় আগের রাতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় সালিবার চুল টেনে ধরার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। ভিএআরের পরামর্শে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করেন রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস দে মেরা। ভিএআরের আলোচনার অডিওতেও সহিংস আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ঘটনাটিকে।

 

 

ম্যাচ শেষে জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে রেফারি লিখেছেন, ‘বল খেলার মধ্যে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের চুল টেনে ধরেছেন তিনি, যদিও তখন দুজনের মধ্যে বল দখলের কোনো লড়াই চলছিল না।’

রেফারির প্রতিবেদনের এই ভাষাই ভিনিসিয়ুসের শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বুধবার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তের আগে স্প্যানিশ ফুটবলের শৃঙ্খলাবিধির ১৩০ নম্বর ধারার দুটি পৃথক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।

ধারাটির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খেলা চলাকালে কিংবা কোনো খেলার ঘটনার সরাসরি পরিণতিতে সংঘটিত সহিংস আচরণে আঘাত বা ক্ষতি না হলেও ঝুঁকি তৈরি হলে এক থেকে তিন ম্যাচ অথবা সর্বোচ্চ এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। এই ব্যাখ্যা অনুসরণ করলে চুল টানার ঘটনায় ভিনিসিয়ুসের শাস্তি এক ম্যাচেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

তবে একই ধারার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বল দখলের লড়াইয়ের বাইরে কিংবা খেলা বন্ধ থাকা অবস্থায় এমন আচরণ ঘটলে শাস্তি হবে দুই থেকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। রেফারি যেহেতু প্রতিবেদনে একই সঙ্গে ‘বল খেলার মধ্যে ছিল’ এবং ‘দুজনের মধ্যে বল নিয়ে লড়াই চলছিল না’ বলে উল্লেখ করেছেন, তাই কোন ব্যাখ্যাটি প্রযোজ্য হবে, সেটি নির্ধারণ করতে হবে তিন সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটিকে।

ভিনিসিয়ুস অবশ্য বিপদ বাড়িয়েছেন লাল কার্ড পাওয়ার পরের ঘটনায়। মাঠ ছাড়ার আগে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও আলাদাভাবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রেফারি লিখেছেন, ‘লাল কার্ড দেখানোর পরও মাঠে অবস্থান করে তিনি চিৎকার করতে করতে আমার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আমার দিকে এগিয়ে আসেন এবং সতীর্থদের আটকে রাখতে হয় তাকে। তবে তার মুখ থেকে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।’

এই আচরণের জন্যও আলাদা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন রিয়াল তারকা। তার জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি হবে, ঘটনাটিকে খেলোয়াড়সুলভ আচরণের পরিপন্থী অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অথবা ৬০২ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে সর্বনিম্ন শাস্তি প্রয়োগ করা হলেও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

তবে শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটিকে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করলে ১২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী দুই থেকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। একইভাবে রেফারির প্রতি অবজ্ঞা বা অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে ১২৪ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হলেও শাস্তির পরিমাণ হবে দুই থেকে তিন ম্যাচ অথবা সর্বোচ্চ এক মাসের নিষেধাজ্ঞা।

সব মিলিয়ে ভিনিসিয়ুসের সামনে এখন তিন ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে কম শাস্তি হলে চুল টানার ঘটনায় এক ম্যাচ এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার জন্য আরও এক ম্যাচ, মোট দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাবেন তিনি।

মধ্যবর্তী পরিস্থিতিতে শাস্তি হতে পারে তিন ম্যাচের। সে ক্ষেত্রে মূল ঘটনার জন্য এক ম্যাচ ও প্রতিবাদের জন্য দুই ম্যাচ, অথবা মূল ঘটনার জন্য দুই ম্যাচ ও পরবর্তী আচরণের জন্য এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

আর সবচেয়ে কঠোর ব্যাখ্যা প্রয়োগ করা হলে মূল ঘটনার জন্য দুই ম্যাচ এবং রেফারির প্রতি প্রতিক্রিয়ার জন্য আরও দুই ম্যাচ মিলিয়ে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।