বাস নেই, ছোট ঘর-বিছানা, ক্ষমা চাইলেন আয়োজকরা

স্পোর্টস ডেস্ক

এশিয়ান গেমসের মতো বিশাল আয়োজন সামলাতে গিয়ে এবার হোঁচট খেয়েছে জাপানের আয়োজকরা। শেষ মুহূর্তে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় দুই হাজার বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। কোথাও ছোট ঘর, কোথাও ছোট বিছানা, আবার কোথাও অনুশীলনে যাওয়ার বাসই মেলেনি, অভিযোগের পর এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল আয়োজক কমিটি।

আয়োজকদের প্রাথমিক হিসাব ছিল, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে অংশ নেবেন প্রায় ১৫ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একের পর এক দল ও সদস্য যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজারে। অপ্রত্যাশিত এই চাপেই মূলত আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমস আয়োজক কমিটির মহাসচিব সাতোশি মুরাতে এসব সমস্যার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, 'বিভিন্ন কারণে আবাসন ও পরিবহনে ভুল হয়েছে। কারণ যা-ই হোক, সেবা দেওয়ার দায়িত্ব আয়োজক কমিটির। তাই এসব ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।'

সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান মুরাতে, 'আমাদের কর্মীরা প্রতিদিন প্রতিটি ভুলের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন এবং যাতে একই ভুল আবার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করছেন। আমার মনে হয়, শুরুর দিকের তুলনায় এখন আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।'

অংশগ্রহণকারী দলের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সবার জন্য একই মানের সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন আয়োজক কমিটির মহাসচিব। তবে অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

'অ্যাথলেটরা যাতে নিজেদের সেরা অবস্থায় প্রতিযোগিতা করতে পারে, সেটিই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করার ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তনের কাজ চলছে। গেমসের দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এসব উদ্যোগ যেন বাস্তবে ফল দেয় এবং আমরা আরও মসৃণ ও কার্যকরভাবে সবকিছু পরিচালনা করতে পারি,' বলেন মুরাতে।

তবে আয়োজকদের সমস্যার চিত্র শুধু অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, মাঠের বাইরের বাস্তব অভিজ্ঞতাতেও তার প্রমাণ মিলেছে। মঙ্গোলিয়ার নারী বাস্কেটবল দলের কোচ হাভিয়ের গার্সিয়া আলভারেজের অভিযোগ, অনুশীলনে যাওয়ার জন্য তাদের বাসই আসেনি। শেষ পর্যন্ত অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছে দলটিকে।

'আমি ফিবা এশিয়ার অনেক বাস্কেটবল কাপ এবং কয়েক বছর আগে ইনচনে এশিয়ান গেমসেও অংশ নিয়েছি। অনুশীলনের জন্য বাস না আসার মতো এমন সমস্যায় কখনো পড়িনি,' রয়টার্সকে বলেন তিনি। তার মতে, মেয়েদের শুটিং অনুশীলনের পরিকল্পনা ছিল, সবাই মানসিকভাবেও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস না আসায় অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছে, যা ছিল হতাশাজনক।

আবাসন নিয়েও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকে। ফিলিপাইনের স্কোয়াশ খেলোয়াড় ইভন আলিসা দালিদাকে একটি চার্টার করা প্রমোদতরীতে নিজের কক্ষে উঠতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনিও মনে করেন, জাপান বা আয়োজক কমিটি আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারত। তবে অপ্রচলিত এই আবাসন ব্যবস্থার একটি ভালো দিকও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

'আমার মনে হয়, জাপান বা আয়োজক কমিটি এই আয়োজনের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারত। তবে এটিও বেশ দারুণ, কারণ বিষয়টি একেবারেই আলাদা। আমি কখনো প্রমোদতরীতে উঠিনি, তাই এটিকে তাদের এই ব্যবস্থা ব্যবহারের একটি ইতিবাচক দিকও মনে হচ্ছে,' বলেন দালিদা।