‘আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ালে অন্য রকম এক শক্তি পাওয়া যায়’
কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ফুটবলারদের জীবন কতটা বদলে যেতে পারে—তার বড় উদাহরণ হুলিয়ান আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে যাওয়ার সময়ও তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার বিকল্প ফরোয়ার্ড। লাউতারো মার্টিনেজ ফর্মে থাকায় শুরুতে তাকে সাইডবেঞ্চেই বসে থাকতে হতো। তবে গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েই চমৎকার এক গোল করেন এই তরুণ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, ফাইনাল পর্যন্ত নিজের জায়গা পাকা করে নেন তিনি।
২৬ বছর বয়সী আলভারেজ ইতিমধ্যেই কোপা লিবার্তোদোরেস, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা আমেরিকাসহ সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন। আলভারেজ এখন আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রধান ভরসা, আর লাউতারো নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইন্টার মিলানকে। নিখুঁত ফিনিশিং আর আগ্রাসী প্রেসিংয়ের কারণে আলভারেজ এখন স্কালোনির দলের অপরিহার্য অংশ। কাতার বিশ্বকাপে ৪ গোল করা এই ৯ নম্বর জার্সিধারী এবারও আর্জেন্টিনার বড় অস্ত্র। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফার সঙ্গে এক বিশেষ আড্ডায় মেতেছিলেন তিনি।
প্রশ্ন: লাউতারো মার্টিনেজের মতো স্ট্রাইকারের সঙ্গে দলে জায়গার জন্য লড়াই করাটা কেমন লাগে?
হুলিয়ান আলভারেজ: আমরা মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারি, তবে আমাদের একসঙ্গে খেলার সুযোগও হয়, যা আমার জন্য দারুণ আনন্দের। আমরা যখনই একসঙ্গে খেলি, দলের জন্য ভালো কিছুই করি। আর আমাদের মধ্যে যখন যেকোনো একজন খেলার সুযোগ পায়, তখনো লক্ষ্য একটাই থাকে—দলের জয়। এই সুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের দুজনকে প্রতিদিন আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করে। যেকোনো দলে এমন সুস্থ লড়াই থাকলে সবারই উন্নতি হয়, এটাই আসল কথা।
প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য কী?
আলভারেজ: একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে ট্রফি জেতার স্বপ্ন আমাদের সব সময়ই থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। আমরা ফাইনালে যেতে চাই। কাজটা সহজ হবে না জানি; অনেক লড়াই করতে হবে, ভাগ্যও পাশে লাগতে পারে। তবে আমরা সেরা প্রস্তুতি নিয়েই ধাপে ধাপে এগোব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে নামার অনুভূতিটাই আলাদা। আমি দারুণ গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শিরোপা ধরে রেখে দেশের মানুষকে আবারও আনন্দের উপলক্ষ এনে দেওয়া।
প্রশ্ন: কাতার বিশ্বকাপের সেরা স্মৃতি কোনটি?
আলভারেজ: আমি মেক্সিকো ম্যাচের কথাই বলব। প্রথম ম্যাচের হারের পর ওই পরিস্থিতির মধ্যে মেক্সিকো ম্যাচটি আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ওই জয়ের পরই দলের ভেতর আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের ভাগ্য আমাদের নিজেদের হাতেই আছে।
প্রশ্ন: এবারও বিশ্বকাপ জিতলে এই আর্জেন্টিনা দল কি ইতিহাসের সর্বকালের সেরা দল হয়ে যাবে?
আলভারেজ: আমরা যদি এবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, তবে তা নিশ্চিতভাবেই ইতিহাস হবে। পরপর দুবার বিশ্বকাপ আর সঙ্গে দুবার কোপা আমেরিকা জেতা তো চাট্টিখানি কথা নয়! গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশের ফুটবল সোনালী সময় পার করছে। আমরা এমন আরও কিছু অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপহার দিয়ে দেশের মানুষকে হাসাতে চাই।
প্রশ্ন: এটি লিও মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। দল হিসেবে আপনাদের ওপর তার প্রভাব কতটা?
আলভারেজ: বয়সের কারণে এটিই লিয়োর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে—সেটি আমরা সবাই জানি। তবে সিদ্ধান্তটা দিনশেষে তার। তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়, তাই তার এই বিশ্বকাপ শুধু আমাদের বা আর্জেন্টিনার মানুষের জন্যই নয়, পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যই স্পেশাল হতে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলে তার প্রভাব আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: দলে এখন নিয়মিত মুখ আপনি, মাঠে নামলে কি আগের চেয়ে দায়িত্ব বেশি মনে হয়?
আলভারেজ: আপনি যখন এই জার্সি গায়ে জড়াবেন, তখন আপনি এমন একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন যারা ফুটবল নিয়েই বাঁচে। ফুটবলের প্রতি তাদের আবেগ অন্য স্তরের। এই জার্সি পরে কোটি মানুষের স্বপ্ন কাঁধে নেওয়া যেমন গর্বের, তেমনি বড় দায়িত্বের। তবে আমরা এই কাজটা মনের আনন্দ আর ভালোবাসা থেকেই করি।
প্রশ্ন: ২০২২ সালের পর থেকে একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের মাঝে কী পরিবর্তন দেখছেন?
আলভারেজ: খেলার ধরন খুব একটা বদলায়নি, তবে ফুটবলের কিছু নতুন কৌশল শিখেছি এবং নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আগের চেয়ে পরিপক্ব হয়েছি। গত কয়েক বছরে বড় বড় ম্যাচ খেলে অভিজ্ঞতা অনেক বেড়েছে। সব কিছুর ওপরে, আর্জেন্টিনার এই জার্সি গায়ে জড়ালে অন্য রকম এক শক্তি পাওয়া যায়। আপনি নিজে না বুঝলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার খেলা আরও উন্নত হতে বাধ্য।