ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা নিষিদ্ধ করায় ফিফার বিরুদ্ধে মামলা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্যালারিতে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন অভিযোগ করেছে, এই সিদ্ধান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং সমর্থকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংগঠন ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি দায়ের করে। ইরানিদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা এই সংগঠনটি এর আগেও সতর্ক করেছিল যে, ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ পতাকা নিষিদ্ধ করা হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, যারা এই পতাকা বহন করতে চান, তারা মূলত সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত প্রতীকী ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করছেন। তাই বিষয়টি আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে।

সংগঠনটি আদালতের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের আলোকে এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সমর্থকদের স্টেডিয়ামে ওই পতাকা বহনের অনুমতি দিতে হবে। তৃতীয়ত, পতাকা বহনের কারণে যদি কোনো সমর্থককে নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকে, তাহলে ফিফাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

প্রাক-বিপ্লবী ইরানি পতাকাটি বর্তমান জাতীয় পতাকার সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে এর মাঝখানে বর্তমান ইসলামী প্রতীকের পরিবর্তে সিংহ ও সূর্যের চিহ্ন রয়েছে। এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরানের শাহ শাসিত আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

সংগঠনটির পরিচালক স্যাম কারমানিয়ান মামলায় জানিয়েছেন, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়াম এবং সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে এই পতাকা নিয়ে যেতে চান। তার যুক্তি, বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বৃহৎ জনসমাগমস্থল হওয়ায় সেখানে ক্যালিফোর্নিয়ার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

গত মাসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিফা সরাসরি ওই পতাকার বিষয়ে মন্তব্য না করে নিষিদ্ধ সামগ্রীর একটি দীর্ঘ তালিকা পাঠিয়েছিল। সেখানে রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তা বহনকারী ব্যানার, পতাকা, পোশাক বা অন্য যেকোনো সামগ্রী নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়।

ফিফা স্পষ্ট করে বলেনি যে ইরানের পুরোনো পতাকাটি ঠিক কোন নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটিকে ‘রাজনৈতিক’ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও কিছু সমর্থককে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় এই পতাকা জমা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। যদিও অন্য কিছু সমর্থক একই পতাকা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে বেশ কয়েকটি শর্তও দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দল যে শহরগুলোতে খেলবে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর এই দাবিগুলো আরও গুরুত্ব পায়।

এদিকে ফিফা সম্প্রতি আরেকটি একই ধরনের বিতর্কেও জড়িয়েছে। বিশ্বকাপের আগে হাইতিকে তাদের জার্সির নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় সংস্থাটি। কারণ জার্সিতে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যেটিকে ফিফা ‘রাজনৈতিক’ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে।

ফিফার কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।