দুবার এগিয়েও জিতল না ডাচরা, লড়াকু ফুটবলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল জাপান
ভেন্যু ডালাস। সময় রবিবার রাত। ‘এফ’ গ্রুপের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস ও জাপান। দু-দুবার লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসতে পারল না ডাচরা। অন্যদিকে, খাদের কিনারা থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ব্লু সামুরাইরা। লড়াকু মানসিকতার পুরস্কার হিসেবে মূল্যবান এক পয়েন্ট পকেটে পুরল এশিয়ান জায়ান্টরা। মাঠ ছাড়ল ২-২ গোলের নাটকীয় ড্র নিয়ে।
ম্যাচের চার গোলের সবকটিই এসেছে বিরতির পর, প্রথমার্ধে জালের দেখা মেলেনি। আক্রমণের ধার কিংবা বলের নিয়ন্ত্রণ— বেশিরভাগ সময় আধিপত্য ছিল নেদারল্যান্ডসেরই। তবে হাল ছাড়েনি জাপান। ম্যাচের শেষ ভাগে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে লড়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও এসেছে।
দুই দলই প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে ১০টি করে শট নিয়েছে। ডাচদের ছয়টি শট লক্ষ্যে থাকলেও জাপানের ছিল মাত্র তিনটি।
বাঁশি বাজার পর থেকেই জাপানি রক্ষণে চাপ বাড়ায় ডাচরা। তৃতীয় মিনিটেই গোলের খাতা খুলতে পারত তারা। বক্সের ভেতর বল পেয়ে দারুণ এক টার্নে জোরাল শট নেন ডোনিয়েল মালেন। বল সোজা এলেও কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
শুরুর উত্তেজনার পর ম্যাচ কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ বলার মতো কোনো আক্রমণ দেখেনি দর্শক। ৩৪তম মিনিটে মালেন আবার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার দুর্বল হেডটি ছিল গোলরক্ষক বরাবর।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে গা ঝাড়া দেয় জাপান। ৪৩তম কেইতো মিনিটে নাকামুরার শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। দুই মিনিট পর আয়াসে উয়েদার প্রচেষ্টাও লক্ষ্য মিস করে।
বিরতির পর ম্যাচের ৫১তম মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙেন ভার্জিল ফন ডাইক। রায়ান গ্রাভেনবার্কের চমৎকার ক্রস ডি-বক্সে খুঁজে নেয় ডাচ অধিনায়ককে। নিখুঁত হেডে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি, যা পোস্টে লেগে ভেতরে ঢোকে।
প্রথমার্ধে গোলমুখে তিনটি ব্যর্থ চেষ্টার পর ৫৭তম মিনিটে ভাগ্য খোলে জাপানের। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই বাজিমাত করে সমতায় ফেরে তারা। তাকেফুসা কুবোর কাটব্যাক থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান নাকামুরা। তার নেওয়া শট ডাচ ডিফেন্ডার জ্যাঁ পল ফন হেকের পায়ে লেগে দিক বদলে আশ্রয় নেয় জালে।
সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি জাপানের। ঠিক সাত মিনিট পর ডাচদের আবারও উল্লাসে মাতান ক্রিসেনসিও সামারভিল। ৬৪তম মিনিটে গ্রাভেনবার্কের পাস থেকে ডি-বক্সের ডান প্রান্তে ফাঁকায় বল পান তিনি। নিখুঁত পজিশন বানিয়ে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান এই উইঙ্গার।
নেদারল্যান্ডস যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই জাপানের ত্রাতা হয়ে আসেন দাইচি কামাদা। ঘড়ির কাঁটায় ৮৮তম মিনিট। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে সবার ওপরে লাফিয়ে হেড করেন বদলি নামা ফরোয়ার্ড কোকি ওগাওয়া। বল সামনে থাকা কামাদার মাথায় লেগে দিক বদলে জড়িয়ে যায় জালে।
মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় ডাচ শিবির। জয়ের এত কাছে এসেও সমতায় মাঠ ছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। অন্যদিকে, বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতে ব্লু সামুরাইরা।