আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ মিশরের

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে অংশ নেওয়ার গৌরব থাকলেও এই আসরে এখনও জয়ের মুখ দেখা হয়নি মিশরের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে বলেই মনে হচ্ছিল। ইমাম আশুরের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফারাওরা। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী এক গোলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।

সোমবার রাতে সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলে ড্র করেছে।

একসময়কার সোনালি প্রজন্মের বেশিরভাগ খেলোয়াড় না থাকলেও কাগজে-কলমে ম্যাচের ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। শুরু থেকেই মিশর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে এবং বেলজিয়ানদের সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বেলজিয়ামও হাল ছাড়েনি। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকা ইউরোপিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবানও হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তারা ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মিশরও ১৪টি শট নেয় এবং ৩টিই ছিল লক্ষ্যে। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল বেলজিয়াম। অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনার একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে শুরু করে মিশর।

রক্ষণে তারা দারুণ শৃঙ্খলা দেখায়। বেলজিয়ামের দুই বিপজ্জনক উইঙ্গার জেরেমি ডোকু ও লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ফারাওরা। আর সেই দৃঢ় রক্ষণ থেকেই আসে ম্যাচের প্রথম বড় আঘাত।

২০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ সাজান মোহাম্মদ সালাহ। তার পাস পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান ইমাম আশুর। শটটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

গোল হজমের পরও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না বেলজিয়াম। কোচ রুডি গার্সিয়া চমক দেখিয়ে রোমেলু লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে চার্লস দে কেতেলায়েরেকে স্ট্রাইকার হিসেবে নামিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে আসেনি। মাঝমাঠে ইউরি টিলেমান্সও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। ফলে বেলজিয়ামের আক্রমণে ধার ছিল না বললেই চলে।

অন্যদিকে মিশরের ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি ডোকুকে প্রায় পুরোপুরি আটকে রাখেন। শুধু রক্ষণেই নয়, বল পায়ে আক্রমণ গড়তেও আত্মবিশ্বাসী ছিল মিশর। ৩৩তম মিনিটে জিদানের একটি ক্রস-শট থেকে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচান কোর্তোয়া।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডোকু ও ট্রোসার্ড নিজেদের অবস্থান বদল করলে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় বেলজিয়ামের আক্রমণ। যোগ করা সময়ে দে কেতেলায়েরের ব্যাকহিল পাস থেকে পাওয়া দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করেন ডোকু।

প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে না পারা বেলজিয়াম বিরতির পর নিজেদের আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনে। ডোকুকে মাঝখানে এনে এবং দে কেতেলায়েরেকে উইংয়ে সরিয়ে দিয়ে নতুন কৌশল সাজান গার্সিয়া। এর ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ হয়ে ওঠে অনেক বেশি খোলামেলা। দুই দলই একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।

ডি ব্রুইনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্য প্রান্তে সালাহর ডাইভিং হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বলে আশুরের সামনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

এরপরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বদলি হিসেবে নামা টিলেমান্সের একটি ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ডি ব্রুইনার আরেকটি প্রচেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

মিশরও বসে থাকেনি। সালাহর দারুণ পাস থেকে ওমর মারমুশ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার শট ব্লক হয়ে যায়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৬তম মিনিটে। তখন মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। আর নামার মাত্র ২২ সেকেন্ড পরই তার উপস্থিতি বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।

থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে লুকাকু বল স্পর্শ করতে না পারলেও তার উপস্থিতির চাপে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ব্র্যান্ডন মেখেলের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন শোবেইর। অন্যদিকে সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনার তরুণ হামজা আবদেলকারিম মিশরের আক্রমণে নতুন গতি আনেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।