ব্রাজিলকে পেল জাপান, মরক্কোর মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস, নকআউটে সুইডেনও
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের প্রত্যাশিত জয়ে 'এফ' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে টিকিট কেটেছে নেদারল্যান্ডস। নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে জমজমাট লড়াই শেষে ১-১ গোলে ড্র করেছে জাপান ও সুইডেন। এই দুটি দলও ডাচদের পাশাপাশি এবারের আসরের শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে।
তিন ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে জাপান। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা আটটি দলের একটি হিসেবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে গেছে সুইডেন। তবে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া তিউনিসিয়া পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি। হতশ্রী পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচে তারা হজম করেছে ১২ গোল।
নকআউট পর্বের প্রথম পর্যায়ে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে এই গ্রুপের দলগুলোর জন্য। বিশ্বকাপের তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর। রেকর্ড চারবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন জাপানের প্রতিপক্ষ রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর ১৯৫৮ সালের রানার্সআপ সুইডেন খেলবে বিশ্বকাপের দুইবারের শিরোপাজয়ী ফ্রান্স কিংবা নরওয়ের বিপক্ষে।
ম্যাচের বয়স তিন মিনিট হতেই লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। ডান প্রান্ত থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের বাড়ানো ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়া অধিনায়ক ইলিয়াস স্কিহিরি। এই আত্মঘাতী গোলের ধাক্কা প্রতিপক্ষ সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ডাচরা। সপ্তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে বল বাড়িয়েছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক। তিউনিসিয়ার রক্ষণ তা সরাতে ব্যর্থ হলে নিখুঁত ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রায়ান ব্রবি।
শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ডাচরা। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রথমার্ধের বাকিটা সময় একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। তবে বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচ জমানোর আভাস দেয় তিউনিসিয়া। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে ওঠা দারুণ হেডে ব্যবধান কমান হাজেম মাস্তুরি।
আফ্রিকান দলটির সেই স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। আট মিনিট পরেই আবার ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় কমলা শিবির। কর্নার থেকে ইয়ান পল ফন হেকের নেওয়া হেড গোলমুখে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও স্কোরলাইনে আর কোনো বদল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ডাচরা।
একই সময়ে মাঠে গড়ানো অন্য ম্যাচটিতে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে লড়াই। শুরুতেই প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে আলেকসান্দার বার্নহার্দসনের নেওয়া বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। সেই উত্তেজনার পর দীর্ঘক্ষণ খেলা চলে মূলত মাঝমাঠে, যেখানে দুই দলের কেউই তেমন জোরাল আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি।
প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে সুইডেনের রক্ষণে চাপ বাড়ায় ব্লু সামুরাইরা। ৪০তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইউকিনারি সুগাওয়ারার নেওয়া শট আটকে দেন ইয়াকুব ভিদেল জেতেরস্ত্রম। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আবারও জাপানের সামনে সুযোগ আসে লিড নেওয়ার। তবে কেইতো নাকামুরার বাঁকানো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান সুইডিশ গোলরক্ষক।
বিরতির পর আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৬তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় প্রচেষ্টায় এগিয়ে যায় জাপান। আয়াসে উয়েদার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করেন রিতসু দোয়ান। সেখান থেকে নিখুঁত পাসে তিনি খুঁজে নেন পেনাল্টি স্পটের কাছে থাকা দাইজেন মায়েদাকে, যিনি দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। তবে জাপানের আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৬২তম মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ক্রস করার ছলে তার নেওয়া আচমকা গতিময় শটটি সুজুকিকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
সমতা ফেরার পর ব্যবধান গড়ার সুযোগ এসেছিল দুই দলের সামনেই। ৬৫তম মিনিটে সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাকের একটি বিপজ্জনক শট রুখে দেন সুজুকি। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন জাপানি গোলরক্ষক। এলাঙ্গার আরেকটি জোরাল শট চমৎকার দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন তিনি। শেষমেশ পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দুই দল।