ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

হালান্ডের গোলে শেষ ষোলোতে নরওয়েকে পেলো ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিল সমর্থকেরা এই ম্যাচের দিকে আগ্রহভরে তাকিয়ে ছিলেন শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ কে হয় সেটি জানতে। শেষ পর্যন্ত ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে আসা নরওয়েই হয়েছে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ। দলের সবচেয়ে বড় তারকা আরলিং হালান্ডের শেষ দিকের গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেছে নরওয়ে। 

৮৫ মিনিট পর্যন্ত দুই দলই ১-১ সমতায় থাকলেও ৮৬ মিনিটে এই বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোল করে নরওয়ের মুখে হাসি এনেছেন হালান্ড। লিওনেল মেসির পর হালান্ড এখন চলতি বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। 

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এমবাপে-হালান্ড দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় থাকা কোটি ফুটবলপ্রেমীর আশাভঙ্গ করে প্রায় পুরো একাদশকেই বিশ্রামে পাঠিয়েছিলেন নরওয়ে কোচ। উদ্দেশ্য ছিল নকআউট ম্যাচের আগে প্রথম একাদশের খেলোয়াড়দের সতেজ রাখা। স্টেল সোলবাকেনের সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে আজ। নিজেদের সেরাটা না খেলতে পারলেও তা আইভরি কোস্টকে হারানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। 

প্রথমার্ধে অবশ্য নরওয়েকে আনন্দের প্রথম উপলক্ষ এনে দেন জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগে খেলা প্রতিভাবান ফুটবলার অ্যান্টোনিও নুসা। নেইমারকে নিজের আদর্শ মানা ২১ বছর বয়সী নুসা গোলটিও করেছেন অনেকটা নেইমারের মতো স্কিল দেখিয়েই। মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো বল বক্সের বাঁ প্রান্তে পেয়েছিলেন নুসা। সেখান থেকে কাট-ইন করে ডান পায়ের অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করে অনেকটা পরিস্থিতির বিপরীতেই নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। 

বিরতির পর আক্রমণে ধার বাড়ায় আইভরি কোস্ট। বিশেষ করে আমাদ দিয়ালো বদলি হিসেবে নামার পর বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করে আফ্রিকান দলটি। ৫৪ মিনিটে পরিষ্কার গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিয়ালোর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই ম্যাচে ফেরে আইভরি কোস্ট। ৭৪ মিনিটের মাথায় বক্সে ঢুকে বেশ কয়েকজনকে কাটিয়ে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সুন্দর গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা দিয়ালো। এর আগে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দলকে গোল হজম করা থেকেও বাঁচিয়েছিলেন তিনি। 

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে যেতে পারে বলে মনে হচ্ছিল, তখন নরওয়ের ত্রাতা হয়ে আসেন হালান্ড। বদলি খেলোয়াড় অস্কার ববের দারুণ থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হালান্ডের উদ্দেশ্যে বাড়ান প্যাট্রিক বার্গ। একদম ফাঁকা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা হালান্ডের শুধু বলে পা লাগানো ছাড়া আর খুব বেশি কিছু করতে হয়নি।  

স্টপেজ টাইমের শেষ দিকে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরানোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছিলো আইভরি কোস্ট। তবে দিয়ালোর দূরপাল্লার দারুণ একটি ফ্রিকিক দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে নরওয়ের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেন গোলরক্ষক নিল্যান্ড। 

শেষ ষোলোতে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে মোকাবিলা করবে হালান্ডের নরওয়ে। তবে ওই ম্যাচের আগে দারুণ স্মৃতি নিয়েই মাঠে নামবেন হালান্ডরা। নরওয়ে সর্বশেষ যেবার বিশ্বকাপে খেলেছিল, সেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।