আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচকে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান যুদ্ধপ্রবীণদের
বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই পুরোনো ইতিহাসের আবেগ নতুন করে জেগে ওঠা। তবে সেমিফাইনালের আগে সেই আবেগে সংযমের ডাক দিয়েছেন আর্জেন্টিনার যুদ্ধপ্রবীণরা। তাদের স্পষ্ট বার্তা, এটি ফুটবলের ম্যাচ, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চ নয়।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সমর্থকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার যুদ্ধপ্রবীণদের একটি সংগঠন। তারা বলেছে, ম্যাচটিকে যেন কোনোভাবেই ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) যুদ্ধের ধারাবাহিকতা বা প্রতিশোধ হিসেবে দেখা না হয়।
সোমবার এক বিবৃতিতে এপ্রিল ২ ওয়ার ভেটেরান্স ফেডারেশন জানায়, এই ম্যাচ ‘কোনো সশস্ত্র পুনরায় লড়াই বা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণের উপলক্ষ নয়।’ সংগঠনটি সমর্থকদের নিহত আর্জেন্টাইন সেনাদের স্মরণ করতে বললেও ঘৃণা, বিদ্বেষ কিংবা বিদেশবিদ্বেষ ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য এবং আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ ও আপসহীন দাবির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তারা আরও যোগ করে, ‘ক্রীড়ার আবেগ এবং জাতীয় স্বার্থের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও অটুট সীমারেখা টানা জরুরি। মাঠে বল গড়াবে, আমাদের জার্সির প্রতি গর্ব আরও বাড়বে, কিন্তু স্মৃতি অমলিন থাকবে।’
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ হয়। আর্জেন্টিনার ভাষায় এটি মালভিনাস, আর ব্রিটিশদের কাছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
বর্তমানে দ্বীপগুলোর ওপর ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতিও বজায় আছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিকভাবে নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি অব্যাহত রেখেছে।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মালভিনাস, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে একটি গান গাইতে দেখা গেছে। তবে সেমিফাইনালের আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার ভাষায়, ‘এই ম্যাচে ফুটবল ছাড়া আর কিছুই বাজি নেই।’
ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও একই সুরে কথা বলেছেন। সোমবার তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ। দুটি গর্বিত জাতি মুখোমুখি হবে, আর মাঠেই ফুটবল কথা বলবে।’
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল বৈরিতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং সেই ম্যাচের স্মৃতি দুই দেশের এই দ্বৈরথকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলেছে।