‘ক্যারিয়ারের শেষে এমবাপেই হবে ফ্রান্সের এক নম্বর ফুটবলার’
জিনেদিন জিদান ও মিশেল প্লাতিনিকে ফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা দুই ফুটবলার বিবেচনা করা হয়। তবে ইএসপিএনের ফরাসি সাংবাদিক জুলিয়েন লরেন্সের মতে, ক্যারিয়ারের শেষে এই দুই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাবেন কিলিয়ান এমবাপে।
ডালাসে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটায় ২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে এমবাপেকে নিয়ে লরেন্সের এমন মন্তব্য ফরাসি শিবিরে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।
এমবাপের প্রশংসায় আমেরিকান গণমাধ্যম ইএসপিএনের সাংবাদিক লরেন্স বলেছেন, ‘আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, ক্যারিয়ারের শেষে এমবাপেই হবে আমাদের (ফ্রান্সের) এক নম্বর ফুটবলার। এই বিশ্বকাপের পরও ওর সামনে অন্তত আরও একটি বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ থাকবে। ফলে সম্ভবত সে আমাদের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হতে যাচ্ছে।’
স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেন এমবাপে। ছিলেন লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও। সেই ধারা বজায় রেখে এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে সবচেয়ে ভয়ংকর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
চলতি আসরে ৬ ম্যাচে ৮ গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন এমবাপে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১১ গোলে (৩ অ্যাসিস্ট) সরাসরি অবদানও তার।
বিশ্বকাপে এমবাপের বর্তমান গোলসংখ্যা ২০। জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের দীর্ঘদিনের রেকর্ড আগেই পেরিয়ে গেছেন তিনি। সামনে ২১ গোল করা মেসি না থাকলে তিনিই হতেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এবারের গ্রীষ্মেই অলিভিয়ের জিরুকে টপকে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। বর্তমানে ১০৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার নামের পাশে রয়েছে ৬৪ গোল।
এমবাপের এমন অভাবনীয় উত্থান নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে জিরু বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি হয়েছে কেবল তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। সে ভালো করেই জানে সে কোথায় পৌঁছাতে চায়। সে একজন নেতা এবং একদম অল্প বয়স থেকেই যে সে কতটা সাবলীল, তা স্পষ্ট ছিল। নিজের বয়সের তুলনায় সে বেশ পরিপক্ব ছিল।’
এত অর্জনের মাঝেও এমবাপের একটি বড় আক্ষেপ রয়েছে। রিয়ালে গত দুই মৌসুমে ব্যক্তিগতভাবে দারুণ খেললেও তাদের হয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্রফি জিততে পারেননি। ফলে এবারের বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমাণের একটা বাড়তি তাগিদ ছিল তার ভেতর।
এমবাপের খেলার ধরন নিয়ে আরেক ফরাসি ফুটবল সাংবাদিক লুক এন্টউইসল বলেছেন, ‘টানা তিনটি বিশ্বকাপে সে এই দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সে নিজেই দলের মূল চালিকাশক্তি।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘সে দারুণ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। কিন্তু ফ্রান্স ও ফ্রান্সের বাইরে এমন একটা ধারণা ছিল যে, সে এমন এক খেলোয়াড় যে কি না সামগ্রিকভাবে দলের ক্ষতি করে। অফ দ্য বল রানিং ও রক্ষণাত্মক কাজে তার আরও বেশি ভূমিকা রাখা নিয়েও কথা হচ্ছিল। সে সেসবও করে দেখিয়েছে।’