ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার জলদস্যু’ বললেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপে ঘি ঢাললেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল। ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ টেনে ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার জলদস্যু’ আখ্যা দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন। যদিও আর্জেন্টিনা দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ।
২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে বুধবার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর আগে ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, 'আগামীকাল আমরা দখলদার জলদস্যুদের বিপক্ষে খেলব। এটি আর দশটি ম্যাচের মতো নয়।'
ফকল্যান্ড, যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত, সেই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ চলছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ভিয়াররুয়েল আরও লেখেন, 'আমি রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করব না বা ঠান্ডা মাথায় কথা বলব না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সব সময়ই অন্যরকম।'
তিনি আরও বলেন, 'এটি মালভিনাসের লড়াই, এটি দিয়েগো, এটি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা, আর এটি দখলদারদের থামিয়ে দেওয়ার লড়াই।'
পোস্টের শেষদিকে তিনি লেখেন, 'চলো আর্জেন্টিনা! শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রাপ্য দাবি করে যাব।' এটি বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বহুল গাওয়া একটি স্লোগানের প্রতিধ্বনি।
ভিয়াররুয়েলের এই বক্তব্যের সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। তার বাবা ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর জয় হয়। সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আর্জেন্টিনা দলের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচটির রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে গুরুত্ব না দিয়ে একে শুধুই ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্কালোনি বলেন, 'এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়। ফুটবল আর রাজনীতিকে একসঙ্গে মেশানো পাগলামি হবে।'
এদিকে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দর্শকদের ফকল্যান্ড বা মালভিনাস-সংক্রান্ত কোনো পতাকা, ব্যানার বা প্রতীক স্টেডিয়ামে বহন করতে দেওয়া হবে না।