বিশ্বকাপের মালিকানার একাংশ বিক্রির প্রস্তাব: সদস্য দেশগুলোকে সময় বেঁধে দিল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টের মালিকানার একাংশ (শেয়ার) বিক্রি করে বিপুল অর্থ আয়ের পরিকল্পনা করেছে ফিফা। এই প্রস্তাবে সমর্থন দিলে আগামী চার বছরের চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশ পাবে ৪ কোটি ডলার। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১১টি সদস্যকে সম্মতি জানাতে হবে বলে সময় বেঁধে দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গতকাল মঙ্গলবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর কাছে দেওয়া এক চিঠির মাধ্যমে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের এই প্রস্তাবটি উন্মোচন করেন। বিশ্ব ফুটবলের বড় ইভেন্টগুলো পরিচালনার জন্য গঠিত প্রায় ২০০০ কোটি ডলার বাজারমূল্যের এই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৪০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করাই ইনফান্তিনো ও ফিফার মূল লক্ষ্য।

এই শেয়ার বিক্রি ও বিনিয়োগকারী খোঁজার মূল দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। এছাড়া, নতুন এই বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি গঠনের প্রক্রিয়ায় ফিফাকে সহায়তা করছে বিখ্যাত মার্কিন ব্যাংক ‘জেপি মরগান’। তবে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ইউরোপ মহাদেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ কোনো ‘কেনাবেচার বস্তু নয়’। অন্যদিকে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) অভিযোগ করেছে, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। এমনকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রীড়া প্রধান গ্লেন মিকালেফ আজ বুধবার ফিফাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমাদের খেলা থেকে হাত দূরে রাখুন।’

যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনো চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন যে, সদস্য দেশগুলো এই প্রস্তাবে সায় দিলে মোট ১০০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল তহবিল তৈরি হবে।

বর্তমানে ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশ চার বছরের একটি চক্রে উন্নয়ন তহবিল হিসেবে পেয়ে থাকে মাত্র ৮০ লাখ ডলার। নতুন প্রস্তাবটি পাস হলে এই অর্থের পরিমাণ একলাফে বহুগুণ বেড়ে যাবে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি সদস্য দেশ মোট ৪ কোটি ডলার করে পাবে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিতেই ২ কোটি ডলার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বাকি অর্থ ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।

চিঠিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রতিটি সদস্য সংস্থার ওপর ছেড়ে দিয়ে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘আপনারা যদি এই প্রস্তাবে এগোতে চান, তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০০০ কোটি ডলারের এই প্যাকেজটি উন্মুক্ত হবে, যা আমাদের যৌথ পথচলার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আর আপনারা যদি বর্তমান অবস্থা বজায় রেখে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে উন্নয়ন তহবিলের (ফরওয়ার্ড প্রোগ্রাম) জন্য আমাদের পূর্বঘোষিত ২৭০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা আগের মতোই বহাল থাকবে।’

তবে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে সমালোচকরা এটিকে সরাসরি ‘ডাহা ঘুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।