২০০৯ সাল থেকে ঢাবির শিক্ষকসহ সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটের

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এসব সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।

নিয়োগ পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিন্ডিকেট। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এছাড়া, গবেষণা প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমুজাদ্দেদী আলফেসানীকে প্রধান করে একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই ১৫ বছরে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত 'হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের' অধীনে বাস্তবায়িত সব গবেষণা প্রকল্প খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

অপরদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সুপারিশের দায়িত্ব ৪ জনের ওপর ন্যস্ত করেছে সিন্ডিকেট।

এক্ষেত্রে, উপাচার্য, দুই প্রো-ভিসি ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের শনাক্ত করতে 'ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক' প্ল্যাটফর্মের জমা দেওয়া ১২৫ শিক্ষকের তালিকা এই কমিটি পর্যালোচনা করবে।

উপাচার্য বলেন, 'অভিযুক্ত কোনো শিক্ষকরা যদি কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে সেই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে।'

এদিকে, গতকাল সিন্ডিকেট সভা চলাকালে সভাস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করে ডাকসু, হল সংসদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার মেয়াদ আরও বাড়াতে সিন্ডিকেটের নতুন নীতিমালা অনুমোদন যেন না হয়।

বিক্ষোভের মুখে প্রস্তাবিত সিট বণ্টন নীতি অনুমোদন করেনি সিন্ডিকেট।

উপাচার্য বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সভা চলাকালে বাইরে মাইক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সভায় জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ অন্যান্য অভিযোগে অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটির সুপারিশ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। ট্রাইব্যুনালই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্লাস নেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।