ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো রিলসভিত্তিক ফেসবুক নিউজফিড
ভারতে একটি অভিনব ও নতুন লেআউট চালু করেছে ফেসবুক। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়।
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে চালু করা লেআউটটি পুরোপুরি ভিডিওভিত্তিক। প্রথাগত নিউজফিডের বদলে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও বা ফেসবুকের ভাষায়, রিলস দিয়ে এটি সাজানো হয়েছে।
নতুন লেআউটে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে ঢুকে শুরুতেই রিলস দেখতে পাবেন। অন্য ধরনের কনটেন্ট দেখতে ভিন্ন ট্যাবে যেতে হবে।
মেটা জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াতেও একই লেআউটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তারা চাইলে যেকোনো সময় আগের লেআউটে ফিরে যেতে পারেন। বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করেনি ফেসবুক।
টেকক্রাঞ্চ জানায়, জুলাইয়ে ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসন প্রথম এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব দেশে ভিডিও দেখার প্রবণতা বেশি, সেখানে আরও ভিডিওকেন্দ্রিক নিউজফিড চালুর পরিকল্পনা করছে ফেসবুক।
আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রেও এর একটি সংস্করণ পরীক্ষা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
মেটার জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে জরিপে অংশ নেওয়া ৯৭ শতাংশ ব্যবহারকারী প্রতিদিন মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিডিও দেখেন।
আর জেন জি প্রজন্মের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই রিলস দেখেন।
কোম্পানির নিজস্ব বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে ভারত এখন ফেসবুকের সবচেয়ে বড় বাজার।
গত বছর ফেসবুকের ভিডিওতে বড় পরিবর্তন আনে মেটা। সব ধরনের ভিডিওকে ‘রিলস’-এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। শুরুতে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলোকে রিলস বলা হলেও এখন ফেসবুকে ‘ভিডিও’ ট্যাবের বদলে ‘রিলস’ ট্যাবের অধীনে সব ধরনের ভিডিও দেখা যায়।
একই সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীরা ফেসবুকে কাটানো সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ভিডিও দেখেই ব্যয় করেন।
টেকক্রাঞ্চ আরও জানায়, এ ধরনের পরিবর্তনের পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে এর আগেও ভারতকে ব্যবহার করেছে মেটা।
২০২০ সালে দেশটিতে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পরপরই ইনস্টাগ্রামে আলাদা রিলস ট্যাব চালুর পরীক্ষা করা হয়। পরে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ওপর একই ধরনের ভিডিও-প্রধান লেআউট পরীক্ষা করা হয়েছিল।

