জলবায়ু সংকটে ব্যাহত শিক্ষা: সক্ষমতা বাড়াতে ৩ দিনের জাতীয় কর্মশালা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় 'ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ'-এর আওতায় তিন দিনব্যাপী একটি জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউনেসকোর যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ইউনেসকো, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশনাল প্ল্যানিং (আইআইইপি), সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক বলেন, এই কর্মশালাটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান সক্ষমতাগুলো পর্যালোচনা এবং কোথায় আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করছে। এই প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বাড়াতে, সমন্বয় জোরদার করতে এবং আমাদের নীতি ও কার্যক্রমকে বাস্তব তথ্য ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান সুসান ভাইজ বলেন, প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এবং শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালায় জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৭টি দেশের মধ্যে ১৭৮তম (২০২৫ সালের নটর ডেম ইনডেক্স অনুযায়ী)। 

জাতীয় শিক্ষা তথ্যের বরাতে বলা হয়, শুধু ২০২৩ সালেই দেশের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং লবণাক্ততার প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শেখার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইউনেসকো-আইআইইপি-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শক্তিশালী নীতিগত ভিত্তি থাকলেও শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষক উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণে জলবায়ু অভিযোজন বিষয়টি এখনো পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

আগামী ১২ মে পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ৩০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও শিক্ষা পরিকল্পনাবিদ অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বদরুন নাহার।

কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।