আজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রের সবগুলোকেই সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন (শরীরে পরিহিত) ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে সারা দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
আগে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি বোর্ডের আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতো। এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে আসনে বসতে হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করতে হবে।
১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে ৯২ হাজার ৯০৫ জন। আর ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪।
ঢাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি (ঢাকা মহানগর পুলিশ)।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেবে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, প্রতিটি পরীক্ষককে দেওয়া খাতার সংখ্যা কমানো হবে এবং খাতাগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বোর্ডগুলো দৈবচয়ন ভিত্তিতে নমুনা খাতা পুনরায় পরীক্ষা করবে।
তিনি বলেন, আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সতর্ক রয়েছি।
কোনো পরীক্ষক অসাবধানতাবশত খাতা মূল্যায়ন করলে বা খেয়ালখুশিমতো নম্বর দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার আইন কঠোর করেছে, তিন সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব বা ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
মিলন আরও বলেন, এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয় করার জন্য সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমরা উপাচার্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি। এগুলো নীতিগত বিষয়। ভর্তি শুরু হওয়ার আগেই আপনারা দেখতে পাবেন, আমরা কী ধরনের সমন্বয় করছি।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা
সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পরীক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি। এই বোর্ড থেকে ৩ লাখ ৩৯৩ শিক্ষার্থী এইএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থী সবচেয়ে কম। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।
অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০। যশোর বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৬১১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে ৬ হাজার ৮০৩ জন বাড়লেও কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ৬৪৭ জন কমেছে।
নতুন শিক্ষাক্রম
মিলন বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে, কারণ সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৭ সাল থেকে এটি চালু করা সম্ভব ছিল না। তিনি আরও জানান, পাঠ্যক্রম প্রণয়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই-ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যা শুরুতে তাত্ত্বিকভাবে এবং পরে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।