আদ্রিয়ানো, মেসি, রোনালদোদের সঙ্গী বেনজেমাও

স্পোর্টস ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখালেন করিম বেনজেমা। সেই সুবাদে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি স্ট্রাইকার ঢুকে গেলেন এক বিরল তালিকায়। ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব আসরে টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ ফুটবলার তিনি।

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে চেলসির মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল। সফরকারীদের পক্ষে সবগুলো গোল করেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা বেনজেমা। প্রথমার্ধে জোড়া লক্ষ্যভেদের পর দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।

প্রতিযোগিতার আগের ম্যাচে পিএসজির বিপক্ষেও হ্যাটট্রিকের স্বাদ নিয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী বেনজেমা। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল রিয়াল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ১৭ মিনিটের মধ্যে তিনবার প্যারিসিয়ানদের জালে বল পাঠিয়ে দলকে শেষ আটে তোলেন বেনজেমা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবার আগে টানা দুই হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছিলেন শাখতার দোনেস্কের লুইজ আদ্রিয়ানো, ২০১৪ সালে। এরপর বার্সেলোনার লিওনেল মেসি তালিকায় নাম লেখান ২০১৬ সালে। পরের বছর রিয়ালের হয়েই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো গড়েন এই নজির।

চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রথম উল্লাসের মুহূর্ত আসে বেনজেমার জন্য। তার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস। এরপর তিনি বাড়ান ক্রস। তাতে মাথা ছুঁইয়ে চেলসির গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দিকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান বেনজেমা। স্বাগতিকরা এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরেকটি গোল খেয়ে বসে। এবার লুকা মদ্রিচের মাপা ক্রসে নিখুঁত হেডে নিশানা ভেদ করেন বেনজেমা।

কাই হাভার্টজ ৪০তম মিনিটে ব্যবধান কমালেও বিরতির পর ফের খেলা শুরু হলে অমার্জনীয় এক ভুল করে বসেন মেন্দি। গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকখানি বেরিয়ে গিয়ে কাসেমিরোর শট বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। কিন্তু বেনজেমার চাপে পড়ে তিনি তড়িঘড়ি খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন আন্টোনিও রুডিগারকে। ওই দুর্বল পাস ডেকে আনে বিপদ। রুডিগারের কাছ থেকে বল কেড়ে বেনজেমা অনায়াসে পাঠিয়ে দেন জালে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে বেনজেমার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৩৬ ম্যাচে ৩৭ গোল রয়েছে তার নামের পাশে। গোলের হিসাবে এটি তার ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে ৩২ গোল করেছিলেন তিনি।