‘পুনঃব্যবহারের’ ধারণা জনপ্রিয় করতে রাজধানীতে ব্যবহৃত পণ্যের হাট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

অহেতুক কেনাকাটার অভ্যাস বদলে 'পুনঃব্যবহার' ধারণাকে জনপ্রিয় করতে রাজধানীতে চলছে ৫ দিনব্যাপী ‘ব্যবহৃত পণ্যের হাট’।

রাজধানীর আসাদগেটে পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘আলাই’ এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত।

সংগঠনটি জানায়, ‘পুরোনো মানেই ফেলনা নয়, ঝোঁকের বশে ক্রয় নয়’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যবহৃত পণ্যের এই হাট বসানো হয়েছে।

প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে 'পুনঃব্যবহার' ধারণাকে জনপ্রিয় করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য পণ্যের ক্ষণস্থায়ী ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং অহেতুক নতুন পণ্য ক্রয়ের প্রবণতা কমানো।

যেকোনো দ্রব্য উৎপাদনে যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহৃত হয়, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই হাটের প্রধান উদ্দেশ্য। হাটে পাওয়া যাচ্ছে শাড়ি, পোশাক, ব্যাগ, গয়না, ব‌ই, খেলনা, গাছ ইত্যাদি।

আয়োজকরা বলছেন, প্রচলিত ধারায় কোনো পণ্য পচনশীল নাকি অপচনশীল—তা দিয়েই আমরা পরিবেশবান্ধবতা বিচার করি। কিন্তু একটি পণ্য উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ খরচ হয়, মাটি-পানি-বায়ু দূষিত হয় এবং ব্যাপক কার্বন নিঃসৃত হয়। ভোক্তা হিসেবে এই অদৃশ্য পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব সাধারণ মানুষের বিবেচনায় থাকে না।

ব্যবহৃত পণ্যের হাট মূলত মানুষকে দায়িত্বশীল ভোক্তা হওয়ার বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

আয়োজকরা জানান, এই প্রদর্শনী বা হাট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও পণ্য লেনদেনের প্রক্রিয়াটি সারা বছরই চলমান থাকবে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে যেকেউ এই কার্যক্রমে তাদের ব্যবহৃত পণ্য দিতে পারবেন।

তবে পুরো উদ্যোগটিকে কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন বা কেনাবেচা হিসেবে না দেখে প্রকৃতি সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবেশ সচেতনতার বিষয়টি মাথায় রেখে এই হাটে পণ্য বহনের জন্য কোনো ধরনের সিঙ্গেল ইউজ পলিথিন, টিস্যু ব্যাগ কিংবা কাগজের ব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে না। ক্রেতাদের নিজ দায়িত্বে ব্যাগ নিয়ে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া চট বা পরিত্যক্ত কাপড় দিয়ে তৈরি ব্যাগ কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

আসাদগেট ওভারব্রিজের পাশে আসাদগেটে তানিন সেন্টারের নবম তলায় আলাই কার্যালয়ে হাটের পাশাপাশি গতকাল শনিবার ও আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত  গান, কবিতার আয়োজন রাখা হয়েছে।