মেরামত কাজের মধ্যেই খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দফায় ভেঙে গেছে হবিগঞ্জের কালীগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে ওই এলাকার হাজারো মানুষের পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের এই এলাকার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কালীগঞ্জে আগের ভেঙে যাওয়া বাঁধের মেরামত করা অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত মাসে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে মেরামতের কাজ চলছিল।
সায়েদুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকে ভারতের উজানে আসা পানির ঢল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় মেরামত চলমান বাঁধটি পানির চাপ ধরে রাখতে পারেনি। আজ দুপুরের দিকে বাঁধটি আবার ভেঙে যায় এবং পানি ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
গত ৯ জুলাই কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের এই স্থানটি ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে পাউবো বাঁধ মেরামতের কাজ হাতে নিলেও দেড় মাসে তা সম্পন্ন হয়নি।
কালীগঞ্জের বাসিন্দা শওকতুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, বাঁধের সেই একই অংশ দিয়ে এলাকায় পানি ঢোকায় আমরা আবারও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আগের ভাঙনে আমাদের ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ক্ষতি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম কর্তৃপক্ষ এবার বাঁধটি ঠিকমতো মেরামত করবে, কিন্তু কাজটি ঠিকমতো হয়নি।’
‘পানি বাড়তে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে,’ যোগ করেন এ বাসিন্দা।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘দেড় মাস আগে এই বাঁধটি ভেঙে গিয়েছিল। তখন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও মানুষের খেত-খামারসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। অথচ দেড় মাসের মধ্যেই আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
‘এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর প্রধান কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি একটু সচেতনভাবে কাজটি করত, তাহলে এত মানুষকে আবার পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হতো না,’ যোগ করেন তিনি।
তবে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত মাসের বন্যায় ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এখন আবার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ন কেন্দ্রে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
