কলকাতায় মাংসের দোকানে বুলডোজার চালালো বিজেপি সমর্থকরা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ২০৭ আসনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। টানা ১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।

ভোটগ্রহণে শেষ হতে না হতেই ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত রাজ্যটি থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিউমার্কেটের একটি মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে।  

পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 

তৃণমূলের অফিসে আগুন। ছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট
তৃণমূলের অফিসে আগুন। ছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

আজ বুধবার ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে এসব সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে। 

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, জেলায় জেলায় তাদের একের পর এক অফিস দখল করা হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে।

নিউমার্কেটে মাংসের দোকান ভাঙার অভিযোগ 

কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে বিজেপির বিজয় মিছিল থেকে বুলডোজার দিয়ে মাংসের দোকান ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই বিজয় মিছিল বের করা হয়েছিল। 

বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সিআরপিএফের (কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ) সদস্যদের উপস্থিতিতে নিউমার্কেটের একটি মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। 

ডেরেক নিজের পোস্টে লেখেন, 'মধ্য কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে, পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষেই, মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার আনা হয়েছে। জয়ের উদযাপন হিসাবেই তা করা হয়েছে। সিএপিএফ কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। আপনাদের জন্য বিজেপি। সারা দুনিয়া দেখুক এই ছবি।' 

তবে ডেরেকের এসব অভিযোগ উড়িয়ে দেয় পুলিশ। 

তারা জানায়, সেই বিজয় মিছিলের অনুমতি দেওয়া হলেও সঙ্গে বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

লোকসভার সদস্য মহুয়া মৈত্র এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন এক্সে। 

অগ্নিসংযোগের  অভিযোগ

গতকাল মঙ্গলবার জগৎবল্লভপুরে তৃনমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তৃণমূলের পার্লামেন্ট সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ‘বিজেপির দুষ্কৃতিকারীরা জগৎবল্লভপুরে তৃণমূলের পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে—বাংলার মানুষকে এখন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি উদ্বেগজনক প্রতিফলন।’

 

সন্দেশখালি ও বীরভূমে সহিংসতা 

ভোটের ফলপ্রকাশের পর সন্দেশখালির ন্যাজাটে দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। 

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে থানার ওসি ও দুই কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বীরভূমের নানুর থানার সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টির তদন্ত করছে। 

তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী খুনের অভিযোগ 

দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের দিন তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ এজেন্টকে কলকাতার বেলেঘাটায় হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। 

এ ছাড়া নিউ টাউনে এক বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ। 

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই সহিংসতা 

ভোটের আগে জানানো হয়েছিল, আগামী দুই মাস কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে থাকবে। 

তাদের থাকা অবস্থাতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট শেষে সহিংসতা শুরু হয়েছে। 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।