যেভাবে ‘রাজপুত্র’ হলেন বেলজিয়ামের গাড়িবিক্রেতা
বেলজিয়ামের রাজপুত্র লরাঁ ২৬ বছর বয়সী সাবেক গাড়িবিক্রেতা ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভকে আইনগতভাবে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরাঁ ও বেলজিয়ান সংগীতশিল্পী ওয়েন্ডি ভান ওয়ান্টেনের সম্পর্কের ফলে জন্ম নেন ভানদেনকার্কহোভ।
ছয় মাস আগে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে প্রিন্স লরাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
তবে এ বিষয়টি সম্প্রতি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে এসেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুত্রের মর্যাদা পেলেও তিনি রাজপরিবার থেকে কোনো ভাতা পাবেন না।
বাবার পরিচয় জানার পর বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ কয়েক বছর সময় পেয়েছেন ভানদেনকার্কহোভ।
সম্প্রতি তিনি বলেছেন, নিজের নামের পাশে বাবার পারিবারিক নাম ‘সাক্সে-কোবুর্গ’ ব্যবহার করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন।
তিনি বেলজিয়ান দৈনিক হেট নিউসবলাদকে বলেন, ‘হয়তো আমি তা করতে চাইব। তবে ভানদেনকার্কহোভ নামটি নিয়ে আমি গর্বিত।’
‘আমি যদি এই পারিবারিক নামটি ত্যাগ করি, তাহলে আমার জন্য মা যা কিছু করেছেন, তার সবকিছুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে’, যোগ করেন তিনি।
তার সৎবোন প্রিন্সেস লুইস, সৎভাই প্রিন্স এমেরিক ও প্রিন্স নিকোলাসের মতো তিনি বেলজিয়ামের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের তালিকায় থাকবেন না।
রাজপরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমেও তিনি অংশ নেবেন না।
ভানদেনকার্কহোভ বেলজিয়ামের মানুষের কাছে ইতোমধ্যে একজন পরিচিত মুখ। গত সেপ্টেম্বরে ফ্লেমিশ ভাষায় নির্মিত একটি টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্রে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়।
সেখানে তিনি কীভাবে নিজের বাবার সঙ্গে পরিচিত হন, তা তুলে ধরেন।
তার বাবা ওয়েন্ডি ভান ওয়ান্টেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ওই গায়িকার প্রকৃত নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ। তবে সন্তান জন্ম নিলেও ওই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করেন প্রিন্স লরাঁ।
ভিটিএমের ওই প্রামাণ্যচিত্রে ক্লেমঁ বলেন, ২০১৩ সালে একটি শপিং সেন্টারে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি জানতেন না যে ওই ব্যক্তি তার বাবা। তার বয়স ১৬ বছর হওয়ার পরই মা তাকে বাবার পরিচয় জানান।
এর চার বছর পর সাহস করে তিনি বাবাকে ফোন করেন। এরপর আরও কয়েকবার ফোনে কথা বলার পর তাদের সরাসরি দেখা হয়। একপর্যায়ে প্রিন্স লরাঁ তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করানোর প্রস্তাব দেন।
তিনি ভিটিএমকে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমার মনে আছে, তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যাতে স্বস্তি বোধ করো, সেটা নিশ্চিত করতে আমি আগে যাব।’
এরপর ওই পরীক্ষাগার থেকে একটি ই-মেইল পান তিনি।
সেখানে জানানো হয়, তাদের ডিএনএতে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে।
একই রকম ঘটনা ঘটেছিল প্রিন্স লরাঁর বাবা রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্টের জীবনেও। দীর্ঘদিনের পিতৃত্ব-সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের পর তিনি ডিএনএ পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
২০২০ সালে অ্যালবার্ট স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে তার একটি কন্যাসন্তান জন্মেছিল। পরে তিনি তাকে নিজের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
পিতৃত্বের বিষয়টি রাজপরিবারের কেলেঙ্কারিতে পরিণত হওয়ার পর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় অ্যালবার্ট বেলজিয়ামের রাজার পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
পরিচিত শিল্পী দেলফিন বোল শেষ পর্যন্ত আদালতে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হন এবং রাজকন্যার উপাধি ব্যবহারের অধিকার পান। বর্তমানে তিনি নিজেকে দেলফিন দ্য সাক্সে-কোবুর্গ নামে পরিচয় দেন।
২০১৩ সালে বেলজিয়ামের আইনে পরিবর্তন আনা হয়। এরপর রাজপরিবারের মাত্র কয়েকজন সদস্য সরকারি ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তারা হলেন—রাজা ফিলিপ, তার বাবা রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট, প্রিন্স লরাঁ এবং প্রিন্সেস আস্ট্রিড।
