ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে সবকটি বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার পেন্টাগন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই বিমানঘাঁটির কাছেই একটি সন্দেহজনক ঘটনার পর আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বার্তাসংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমরা এখন নিশ্চিত করতে পারি, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর এই স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারিনি।

গত রোববার দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের এই বিমানঘাঁটিতে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। স্থানীয় এক কৃষক কয়েকজনকে কয়েকটি যান নিয়ে সেখানে ‘সন্দেহজনক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছিলেন।

এই ঘটনার জেরে বিমানঘাঁটির কাছের ৮৫টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ইরানে মার্কিন হামলায় এই বিমানঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই ঘটনাকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। কেউ ভেবেছিলেন এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আবার কেউ ভেবেছিলেন জ্বালানি চুরির ঘটনা। কারণ, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যানবাহনগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর।

এই ঘটনায় লন্ডনের বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় ওয়াশিংটন এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

লন্ডনে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এই ঘটনায় তেহরানের জড়িত থাকার সব জল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।