ইরানের বিক্ষোভরত জনতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানে চলছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভরত ইরানীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, 'আমরা ইরানের জনগণের স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম ও প্রত্যাশার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।'
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'খুব সম্ভবত আমরা এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যখন ইরানের জনগণ তাদের নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।'
গত ২৮ ডিসেম্বর রোববার উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের দোকানি ও ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে যান। পরে এই কর্মসূচি বিক্ষোভ আন্দোলনে রূপ নেয় এবং তা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ থেকে সৃষ্ট সংঘাতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও আছেন।
আজ রোববার নেতানিয়াহু জানান, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, 'আমরা আবারও আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ হতে হবে এবং ইরান থেকে ইতোমধ্যে সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৪০০ কেজি পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি, আগামীতে পরমাণু স্থাপনাগুলো কঠোর ও প্রকৃত নজরদারির আওতায় থাকতে হবে।
ইরানের ওই 'নাটকীয়' বিক্ষোভ চলাকালেই ট্রাম্পের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন বলে উল্লেখ করেন গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের সমন্বয় করে এএফপি জানতে পেরেছে, ইরানের অন্তত ৪০টি ভিন্ন ভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে শহরভেদে বিক্ষোভের মাত্রায় তারতম্য ছিল বলেও বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওই ৪০ শহরের বেশিরভাগই মাঝারি আকারের এবং এগুলোর অবস্থান মূলত ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে।
এর আগে গতকাল শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দেন, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র 'তাদের উদ্ধারে' এগিয়ে আসবে।
ইরান-ইসরায়েল একে অপরের চিরশত্রু হিসেবে বিবেচিত। গত বছর দেশ দুইটি ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ নেয়। ইরানের পরমাণু অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকার ওপর হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে তেল আবিব। তারা যুক্তি দেয়, ইরানের পরমাণু গবেষণা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এই হামলা।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জবাব দেয় তেহরান। পরবর্তীতে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দেয়।
এক পর্যায়ে দুই পক্ষ যুদ্ধ বিরতিতে সম্মতি দেয়।
