কলকাতায় হোটেলে আগুন: মৃতদের মধ্যে আরও ২ বাংলাদেশি

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে আগুনে সাতক্ষীরার দুইজন মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তারা হলেন—আলিমুজ্জামান সাজু (৪৮) ও রেবতী সরকার (৩৫)। তাদের দুজনেরই বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তারালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক ছোট দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য সাজু ও রেবতী কলকাতায় গিয়েছিলেন। হোটেলে আগুন লেগে তাদেরও মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিচিত কয়েকজন কলকাতা থেকে মোবাইল ফোনে নিহত দুজনের পরিবার ও তাকে বিষয়টি জানিয়েছে।

সাজু ও রেবতীর পরিবার গত রাত ১০টার দিকে মৃত্যুর তথ্য পায়। এরপর ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, তারালী ইউনিয়নের বড়েয়া গ্রামের বাসিন্দা সাজু চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তার চিংড়ি ঘের ছিল। পিঠের ব্যথার চিকিৎসা নিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন।

সাজুর আত্মীয় মোখলেসুর রহমান পল্টু বলেন, গতকালই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

রেবতী সরকার একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার স্বামী ভবেশ সরকার একজন শ্রমিক এবং এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক বিধান সরকার জানান, রেবতী ১০-১২ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। গতকাল রাত ১০টার দিকে তার পরিবার জানতে পারে যে তিনি আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান জানান, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কালিগঞ্জের দুজনের মৃত্যুর তথ্য তিনি শুনেছেন। তবে সরকারিভাবে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

‘পুলিশ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে,’ যোগ করেন তিনি।

কলকাতায় হোটেলে মৃতদের চারজন কুষ্টিয়ার একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন—দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলী (৬০)।

মৃত আরেকজন হলেন ঢাকার সাভারের ৩৭ বছর বয়সী যুবক আহমেদ বাবু।